নাসিকের আইটি অফিসে হিন্দু নারীদের ওপর শরীরিক নির্যাতন? পদোন্নতির বদলে গরুর মাংসের চাপ!

নাসিকের আইটি সংস্থায় নারী কর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ম পরিবর্তনের চাপ: সামনে এল ‘কর্পোরেট জিহাদ’-এর অভিযোগ
মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে একটি শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এসেছে, যা কর্পোরেট অফিসের আড়ালে চলা অন্ধকার জগতের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত করেছে। একটি নামী আইটি কো ম্পা নির বিপিও (BPO) বিভাগে কর্মরত হিন্দু নারী কর্মীদের দীর্ঘ বছর ধরে যৌন নির্যাতন, ধর্ম পরিবর্তনের চাপ এবং গোমাংস খাওয়ার জন্য বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই পরিকল্পিত অপরাধকে ‘কর্পোরেট জিহাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। এই গুরুতর অপরাধে ইতিমধ্যেই এক নারী এইচআর ম্যানেজারসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রলোভন এবং নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ
নাসিকের সাতপুর এলাকার ওই আইটি সংস্থায় মুসলিম ম্যানেজারদের অধীনে হিন্দু মেয়েদের নিয়োগ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধি এবং চাকরি স্থায়ী করার প্রলোভন দেখিয়ে নারী কর্মীদের যৌন হেনস্থা করা হতো। তবে এই নির্যাতন কেবল শারীরিক লাঞ্ছনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, নারী কর্মীদের ওপর নামাজ পড়তে এবং গোমাংস খেতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হতো। পাশাপাশি হিন্দু ধর্ম ও দেব-দেবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে তাঁদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হতো। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর ধরে এই অমানবিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল।
সাহস ও তদন্ত: যেভাবে প্রকাশ্যে এল সত্য
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে গত ২৫ মার্চ একজন নারী কর্মী প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশের আহ্বানে আরও সাতজন নারী কর্মী তাঁদের যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তর, দানিশ শেখ এবং একজন নারী এইচআর ম্যানেজার। তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বিবাহিত।
এসআইটি-র বিশেষ কৌশল ও অভিযান
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। ভুক্তভোগী নারীরা যেন নিঃসঙ্কোচে তাঁদের কথা বলতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে ছয়জন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল তৈরি করা হয়। এই দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অফিসের অভ্যন্তরে এবং বিভিন্ন গোপন মিটিংয়ে ঘটা অমানবিক আচরণের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিচারপ্রক্রিয়া
এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজেপি নেতারা একে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ আশ্বস্ত করেছেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীরা যাতে যথাযথ ন্যায়বিচার পান তা নিশ্চিত করা হবে।
এক ঝলকে
- নাসিকের আইটি সংস্থায় হিন্দু নারী কর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ম পরিবর্তনের চাপের অভিযোগ।
- চাকরি স্থায়ী করা ও প্রমোশনের প্রলোভন দেখিয়ে গোমাংস খাওয়ার জন্য বাধ্য করা হতো।
- ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ধরে এই অত্যাচার চলেছে।
- ঘটনায় ৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং এক নারীসহ ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- পুলিশি তদন্তে এসআইটি (SIT) এবং নারী কর্মকর্তাদের বিশেষ গোয়েন্দা দল কাজ করছে।
