নিজের জন্মদাত্রী মায়ের ওপরই কুনজর পড়ল ছেলের, মদের নেশায় চুর হয়ে ঘটাল অনর্থ, জুটল চরম সাজা – এবেলা

নিজের জন্মদাত্রী মায়ের ওপরই কুনজর পড়ল ছেলের, মদের নেশায় চুর হয়ে ঘটাল অনর্থ, জুটল চরম সাজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার শ্যামীওয়ালা গ্রামে গত ৭ই আগস্ট রাতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সমাজ ও সম্পর্কের অবক্ষয়কে চরমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। ৫৬ বছর বয়সী এক মা তার নিজের ৩২ বছর বয়সী ছেলে অশোককে ধারালো কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি হত্যাকাণ্ড মনে হলেও এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবং লাঞ্ছনার এক ভয়াবহ ইতিহাস।

বিজনোর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবক অশোক মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন এবং অবিবাহিত ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের মায়ের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালাতেন। সামাজিক মর্যাদাহানি এবং লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী এতকাল সব মুখ বুজে সহ্য করে আসছিলেন।

ঘটনার নেপথ্যে চরম লাঞ্ছনা ও ধৈর্যের বাঁধ ভাঙা

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মা জানিয়েছেন, ৭ই আগস্ট রাতে অশোক চরম মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফেরেন। এরপর তিনি আবারও তার মায়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অমানবিক অত্যাচার ওই রাতে চরমে পৌঁছালে মায়ের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। আত্মরক্ষা এবং ঘৃণা থেকে তিনি হাতের কাছে থাকা একটি ধারালো কাস্তে দিয়ে ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অশোকের মৃত্যু হয়।

পুলিশি তদন্ত ও সত্য উন্মোচন

ঘটনার পর অভিযুক্ত নারী প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে গ্রামবাসীদের জানান যে, তাদের বাড়িতে ডাকাত দল হামলা চালিয়েছে এবং তারাই অশোককে হত্যা করেছে। তবে মন্দাওয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করার পর নারীর বয়ানে অসঙ্গতি খুঁজে পায়।

পরবর্তীতে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই নারী ভেঙে পড়েন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পুলিশ তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তমাখা পোশাক এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাস্তেটি উদ্ধার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব বাজপেয়ী জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরাধ নাকি পরিস্থিতির শিকার

এই ঘটনাটি গ্রামীণ ভারতের মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক নির্যাতনের এক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। স্থানীয় মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নেশার ঘোরে নিজের মায়ের ওপর বারবার যৌন নিগ্রহ করার মতো বিকৃত মানসিকতা যেমন নিন্দনীয়, তেমনই আইনি পথ না বেছে নিয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পরিণতিও হয়েছে ভয়াবহ। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিচারহীনতা এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয় অনেক সময় ভুক্তভোগীকে এমন চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার স্থান: শ্যামীওয়ালা গ্রাম, বিজনোর, উত্তরপ্রদেশ।
  • ঘটনার তারিখ: ৭ আগস্ট।
  • নিহত ব্যক্তি: ৩২ বছর বয়সী মদ্যপ যুবক অশোক।
  • অভিযুক্ত: নিহতের ৫৬ বছর বয়সী মা।
  • হত্যার কারণ: দীর্ঘদিনের যৌন নির্যাতন ও লালসা থেকে মুক্তি পেতে আত্মরক্ষা।
  • অস্ত্র: ধারালো কাস্তে।
  • বর্তমান অবস্থা: পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *