নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে হরমোজ প্রণালীতে পুতিন-ঘনিষ্ঠের ৪৭০০ কোটির রাজকীয় জাহাজ! নেপথ্যে কী রহস্য?

মার্কিন অবরোধ ও ইরানের কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী আলেক্সি মোর্দাশোভের মালিকানাধীন প্রমোদতরি ‘নর্ড’। প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মূল্যের এই বিশালাকার সুপারয়টটি দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে ওমানের মাস্কাটে পৌঁছায়। এমন এক সময়ে এই ঘটনাটি ঘটল যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরান এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে।
নিষেধাজ্ঞা বনাম বিলাসিতা
রাশিয়ার স্টিল ও খনি শিল্পের দিকপাল মোর্দাশোভ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে ইতালিতে তার একটি ছোট নৌযান জব্দ করা হলেও, ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ ‘নর্ড’ সেই যাত্রায় বেঁচে যায়। ১৪২ মিটারের এই বিশালাকার প্রমোদতরিতে হেলিপ্যাড, সুইমিং পুল ও সাবমেরিনসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক রুশ ধনকুবের তাদের সম্পদ রক্ষার জন্য মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার বন্দরগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
কৌশলগত প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানের কড়া হুঁশিয়ারির মাঝে একটি রুশ পতাকাবাহী যট অনায়াসে পার হওয়া আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কেরই প্রতিফলন। সম্প্রতি তেহরান ও মস্কোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ পশ্চিমা চাপের মুখে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। এই ঘটনাটি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতেও পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রাশিয়ার শীর্ষ ধনী আলেক্সি মোর্দাশোভের মালিকানাধীন ৪,৭০০ কোটি টাকার প্রমোদতরি ‘নর্ড’ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
- ১৪২ মিটার লম্বা এই প্রমোদতরিটিতে সাবমেরিন ও হেলিপ্যাডসহ রাজকীয় বিলাসিতার সব উপকরণ রয়েছে।
- মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও রুশ এই যটটি কোনো বাধা ছাড়াই ওমানের বন্দরে নোঙর করেছে।
- এই ঘটনাটি ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের উত্তেজনা এবং রাশিয়ার সাথে ইরানের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রীর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
