নীল ড্রামে মিলল যুবকের গলাকাটা দেহ, পরকীয়ার জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড – এবেলা

নীল ড্রামে মিলল যুবকের গলাকাটা দেহ, পরকীয়ার জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থানের খেরথাল তিজারা জেলায় একটি নীল রঙের ড্রাম থেকে এক যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হংসরাজ ওরফে সূরজ, যিনি উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় ইটভাটা শ্রমিক হংসরাজ মাস দেড়েক আগে কিষাণগড় বাসের আদর্শ কলোনিতে সপরিবারে ভাড়া থাকতে আসেন। রবিবার তাঁর ঘরের ছাদ থেকে উদ্ধার হওয়া ওই ড্রামের ভেতরে লবণের স্তূপের নিচে লুকানো ছিল মৃতদেহটি।

পরকীয়া ও খুনের নেপথ্য কাহিনী

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক। হংসরাজের স্ত্রী লক্ষ্মীর সঙ্গে বাড়ির মালিকের ছেলে জিতেন্দ্রর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জিতেন্দ্রর স্ত্রী দীর্ঘ ১২ বছর আগে মারা গিয়েছেন এবং লক্ষ্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানাতে অভ্যস্ত ছিলেন। গত জন্মাষ্টমীর দিন বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হংসরাজের গলা কেটে খুনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে এবং দেহ দ্রুত গলিয়ে ফেলতে ড্রামের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে লবণ ঢেলে রাখা হয়েছিল।

পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্ত্রী লক্ষ্মী, অভিযুক্ত জিতেন্দ্র এবং হংসরাজের তিন সন্তান নিখোঁজ ছিল। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে রামগড় এলাকার একটি ইটভাটা থেকে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেছে এবং তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, অভিযুক্তরা সেখানে আত্মগোপন করে শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিল। ঘটনার নৃশংসতা এবং ড্রামে দেহ লুকিয়ে রাখার ধরণটি দিল্লির কুখ্যাত সাহিল মার্ডার কেসের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এক ঝলকে

রাজস্থানের খেরথাল তিজারায় নীল রঙের ড্রাম থেকে হংসরাজ নামে এক শ্রমিকের গলাকাটা দেহ উদ্ধার।

নিহতের স্ত্রীর সাথে বাড়ির মালিকের ছেলে জিতেন্দ্রর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এই খুন বলে পুলিশের অনুমান।

মৃতদেহ দ্রুত গলিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ড্রামের ভেতরে লবণের স্তর দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযুক্ত স্ত্রী ও প্রেমিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং নিখোঁজ তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *