“নৈতিকতার জন্যই বহিষ্কার, আমি খুশি”: বিস্ফোরক এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সই জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! বহিষ্কৃত সন্দীপনের নিশানায় এবার স্বয়ং অভিষেক
এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ রেজোলিউশনে সই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলার পরই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্যের শাসকদল। ঘটনার জেরে একদিকে যেমন বিধায়কের বিদ্রোহী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, তেমনই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরেই বহিষ্কারের অভিযোগ
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সরাসরি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, গত ৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া কোনো বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন না, রেজোলিউশনে তাঁদের নাম ও সই জালিয়াতি করে জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটিকে তিনি সম্পূর্ণ ‘অনৈতিক’ ও বড় ধরনের ‘ব্লান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিধায়কের মতে, উপস্থিত সদস্যদের সই নিয়ে রেজোলিউশন জমা দেওয়াই ছিল নিয়মসম্মত পথ, অথচ সেখানে কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। নৈতিকতার খাতিরে এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানানোই তাঁর অপরাধ বলে মনে করছেন তিনি।
নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
সন্দীপন সাহার এই বিস্ফোরক বয়ানে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে। তিনি সরাসরি এই জালিয়াতি প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তৃণমূলের এই কঠোর সিদ্ধান্ত দলের শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিলেও, বিধায়কের এই বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর আসন্ন দিনগুলোতে দলের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে বিধায়কের এমন প্রকাশ্য অবস্থান দলের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমানসে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরে নতুন কোনো বিভাজনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
