নোয়াপাড়া থেকে এবার সরাসরি মন্ত্রিসভায়, আজই শপথ নিতে পারেন অর্জুন সিং – এবেলা

নোয়াপাড়া থেকে এবার সরাসরি মন্ত্রিসভায়, আজই শপথ নিতে পারেন অর্জুন সিং – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে প্রথমবার পদ্মশিবির ক্ষমতায় আসার পর এবার নতুন মন্ত্রিসভায় বড়সড় চমক মিলতে চলেছে। ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা তথা নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক অর্জুন সিং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন বলে জোরালো খবর। লোক ভবন থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে শপথ গ্রহণের জন্য ফোন এসেছে এবং আজ সোমবারই তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। পাঁচবারের বিধায়ক ও একবারের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের এই অন্তর্ভুক্তি রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিজ্ঞতার পুরস্কার ও মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্জুন সিং প্রথমে ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর তৃণমূল জমানায় চারবার বিধায়ক, বিজেপির টিকিটে একবার সাংসদ এবং এবারের নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হন। আজ রাজ্যে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের দিনে তাঁর এই ডাক পাওয়াকে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পুরস্কার হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, তাঁকে পরিবহন অথবা শ্রম দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিত্বের ডাক পাওয়ার পর আজ সকালেই তিনি বাড়ির কাছের মন্দির এবং কাঁকিনাড়া বাজারের ফলহারি বাবা মন্দিরে পুজো দিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সরকার তাঁকে যে দায়িত্বই দেবে, তিনি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

অর্জুন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির পেছনে ব্যারাকপুর ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লোকসভা ভোটের নিরিখে এবং সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এই শিল্পাঞ্চলে দলের সংগঠন মজবুত রাখতে তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। তাঁকে মন্ত্রী করার মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব একদিকে যেমন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভরসা রাখছে, অন্যদিকে ব্যারাকপুর ও ভাটপাড়া সংলগ্ন অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তাও দিচ্ছে। পরিবহন বা শ্রম দপ্তরের মতো জনমুখী ও শ্রমিক-নির্ভর দপ্তরের দায়িত্ব অর্জুন সিংয়ের হাতে গেলে তা চটকল শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমনে এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *