পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, লিভ-ইন থেকে বিয়েতে আসছে আমূল বদল! – এবেলা

পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, লিভ-ইন থেকে বিয়েতে আসছে আমূল বদল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরাখণ্ড, আসাম ও গুজরাতের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) বিল। আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বহুল চর্চিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ২০২৬’ বিলটি পেশ করতে চলেছে বাংলার বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে বিলটি পেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এই বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে দেশের চতুর্থ রাজ্য, যেখানে ধর্ম-বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান দেওয়ানি আইন কার্যকর হবে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বিজেপির ‘এক দেশ, এক বিধান’ নীতির অন্যতম প্রধান অংশ হলো এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। মূলত ধর্ম-ভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক সন্তান গ্রহণ এবং সম্পত্তির অধিকারের মতো বিষয়গুলিতে এক এবং অভিন্ন আইন বলবৎ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও আইনি একতা নিশ্চিত করা যায়। দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইন বা পার্সোনাল ল’ অনুযায়ী এই বিষয়গুলি পরিচালিত হয়ে আসলেও, নতুন এই বিধির মাধ্যমে সব নাগরিককে একই আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিয়ে, ডিভোর্স ও লিভ-ইনে বড় বদলের সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গে এই বিধি লাগু হলে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমূল পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা না করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সবচেয়ে বড় বদল আসতে চলেছে লিভ-ইন রিলেশনের ক্ষেত্রে। এখন থেকে আর গোপনে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা যাবে না; সম্পর্ক শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সরকারকে তা জানিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে এই বিধিতে, যা লঙ্ঘন করলে আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এছাড়া, এই আইন কার্যকর হলে সমাজে প্রচলিত বহুবিবাহ এবং একতরফা তিন তালাকের মতো প্রথাগুলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। এর ফলে ধর্মীয় আইনের বৈষম্য দূর হওয়ার পাশাপাশি নারীদের আইনি সুরক্ষা ও সম্পত্তির অধিকারে সাম্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *