পাঞ্জাব পুরভোটে বিরোধীদের খড়কুটোর মতো ওড়াল আপ, গেরুয়া চমকের মাঝে কংগ্রেসে ধস! – এবেলা

পাঞ্জাব পুরভোটে বিরোধীদের খড়কুটোর মতো ওড়াল আপ, গেরুয়া চমকের মাঝে কংগ্রেসে ধস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৭ সালের চূড়ান্ত রাজনৈতিক মহারণের আগে পাঞ্জাবের সেমিফাইনালে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিল শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ)। রাজ্যের পুরভোটে বিরোধীদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের দল। ১ হাজার ৯৭৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একাই ৯৫৮টি আসন জিতে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে আপ। তবে এই ফলাফলের মধ্যেও পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপির উল্লেখযোগ্য উত্থান এবং লোকসভা ভোটে ভালো ফল করা কংগ্রেসের আকস্মিক ধস।

শাসকদলের নৈতিক জয় ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

ভোটের ফল অনুযায়ী, মোট ৮টি পুরনিগমের মধ্যে বার্নালা, বাটালা, মোগা, মহালি এবং ভাটিন্ডা— এই ৫টিই দখল করেছে আপ। সম্প্রতি আপের মন্ত্রী সঞ্জীব আরোরাকে ইডি গ্রেফতার করার পর, এই জয়কে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মতে, পাঞ্জাবের মানুষ হিংসা ও বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে এই ভোটের সবচেয়ে বড় চমক বিজেপির উত্থান। গত নির্বাচনে যেখানে গেরুয়া শিবির মাত্র ৪৯টি আসনে জিতেছিল, এবার তা বাড়িয়ে ১৭২ করেছে তারা। আবোহর পুরসভা এককভাবে দখল করার পাশাপাশি পাঠানকোটে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবের ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টি জিতে যে হাওয়া তৈরি করেছিল কংগ্রেস, পুরভোটে তা সম্পূর্ণ উবে গিয়েছে। ৩৯৭টি আসন পেয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির খাসতালুকেই মুখ থুবড়ে পড়েছে দল। শিরোমণি অকালি দল মাত্র ১৯২টি এবং নির্দল প্রার্থীরা ২৫১টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন।

ভোটের নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, আপের এই বিপুল জয়ের পেছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের প্রতি তৃণমূল স্তরের মানুষের আস্থা এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ। তবে ইভিএম বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট করানোর সিদ্ধান্ত এবং মনোনয়ন বাতিল নিয়ে ব্যালট কারচুপির যে অভিযোগ বিজেপি তুলেছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করবে। এই ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে রাজ্যে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকাশ্য রূপ নেবে। তবে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, ২০১৫ ও ২০২১ সালের পুরভোটে যে দলগুলো বিপুল জয় পেয়েছিল, ঠিক তার দুই বছর পরের বিধানসভা নির্বাচনেই তারা ক্ষমতা হারিয়েছিল। ফলে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আপের এই জয় যেমন স্বস্তির, তেমনই অতীতের এই অদ্ভুত রাজনৈতিক ট্রেন্ড শাসকদলের জন্য এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জও বটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *