চীনে মেষ চরালেই মাসে ১ লাখ টাকা বেতন! কেন এই চাকরির দিকে ঝুঁকছেন স্নাতকরা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লক্ষাধিক টাকার বেতন, মেষ চারণের চাকরিতে ঝুঁকছেন চীনের উচ্চশিক্ষিত তরুণরা!
চীনের মঙ্গোলিয়া সীমান্তবর্তী একটি সুবিশাল কৃষি খামারে মেষ পালনের কাজের বিজ্ঞপ্তি সাড়া ফেলেছে পুরো দেশজুড়ে। খামারের মালিক জুও জিয়াওং প্রায় ৫ হাজার একরের এই খামারে ৩ হাজার ভেড়ার দেখাশোনার জন্য দুজন কর্মীর খোঁজে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন। এই কাজের জন্য মাসিক ৮ হাজার ইউয়ান বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সমপরিমাণ বেতনের পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ কর্মসংস্থানের তুলনায় এই বেতন আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রায় ৭০০ জন আগ্রহী ব্যক্তি চাকরির জন্য আবেদন করেছেন।
উচ্চ বেতনের হাতছানি ও কর্মসংস্থানের সংকট
মঙ্গোলিয়া সীমান্তের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে তরুণরা কেন এই শ্রমসাধ্য কাজের দিকে ঝুঁকছেন, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মূলত চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই উচ্চশিক্ষিত তরুণরা এই পেশার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চীনে বর্তমানে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং করপোরেট সংস্কৃতির কঠোর কর্মঘণ্টার চাপে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একদিকে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে প্রথাগত চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় শহরের চাকচিক্য ছেড়ে অনেকে গ্রামীণ এই জীবনধারাকে বেছে নিতে চাইছেন।
পেশাদারিত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
আবেদনকারীদের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশই সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় উত্তীর্ণ স্নাতক। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, উচ্চতর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তরুণরা স্থিতিশীল আয়ের নিশ্চয়তা পেতে কতটা মরিয়া। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অনিয়শ্চিত ক্যারিয়ার ও অতিরিক্ত কাজের চাপের বিপরীতে মেষ চারণের মতো কাজকে অনেকে মানসিক প্রশান্তি ও আর্থিক সঞ্চয়ের নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে দেখছেন। দিনশেষে জুও জিয়াওং মেষ পালনে অভিজ্ঞ এক দম্পতিকে নিয়োগ দিলেও, এই ঘটনা চীনের শ্রমবাজার ও তরুণ প্রজন্মের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।
