ভারত মহাসাগরে চিন-পাক যুগলবন্দি, জলে জবাব দিতে কতটা প্রস্তুত ভারত? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিঃশব্দে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে চিন ও পাকিস্তান। বেজিং ও ইসলামাবাদের এই যৌথ সক্রিয়তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সম্প্রতি ভারতের নৌসেনা প্রধান দীনেশ ত্রিপাঠী এই পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে জানিয়েছেন, সমুদ্রবক্ষে ভারতের সামনে এখন এক দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে যেকোনো ধরনের বহিরাগত আগ্রাসন রুখতে এবং জলপথে ভারতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বাড়ছে চিনা প্রভাব ও পাকিস্তানের নৌশক্তি
গত কয়েক বছর ধরে ভারত মহাসাগর এবং এর সংলগ্ন এলাকায় চিনের যুদ্ধজাহাজ ও নজরদারি নৌযানের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৌশলগত এই জলপথে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি পাকিস্তানের নৌশক্তিকে শক্তিশালী করতেও সরাসরি হাত বাড়িয়েছে বেজিং। এই যৌথ সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাকিস্তান চিন থেকে চারটি অত্যাধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ কিনছে। ইতিমধ্যেই এর প্রথমটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর কাছে পৌঁছে গিয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের প্রতিরোধ কৌশল ও সামুদ্রিক প্রস্তুতি
এই ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ভারতীয় নৌসেনা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য না করে দেশের সার্বিক জলসীমা সুরক্ষিত রাখাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সহযোগিতা থেকে প্রতিযোগিতার যুগ’ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। যেকোনো ধরনের জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের সামুদ্রিক নজরদারি পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনেছে। সমুদ্রের তলদেশে শত্রু জাহাজের গতিবিধি চিহ্নিতকরণ, ডুবোজাহাজ প্রতিরোধী যুদ্ধকৌশল এবং দূরপাল্লার সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। নৌপ্রধানের মতে, এই আধুনিকায়নের ফলে ভারত মহাসাগরে যেকোনো ধরনের আকস্মিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষকে দ্রুত ও জোরালো জবাব দিতে ভারতীয় নৌসেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম।
