পাহাড়ে ফের গুরুং ম্যাজিক, বিজেপিকে জিতিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখলেন গোর্খা নেতা!

দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেকে আবারও অপরিহার্য প্রমাণ করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। একসময় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেও, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের নাড়ি এখন তাঁরই দখলে। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্সের মাদারিহাট— এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপি প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে জিতিয়ে এনে গুরুং বুঝিয়ে দিলেন, সুবাস ঘিসিং-পরবর্তী যুগে পাহাড়ের রাজনীতিতে তিনিই আসল ‘কিং মেকার’।
পাহাড় ও ডুয়ার্সে একাধিপত্যের জয়
এবারের নির্বাচনে বিমল গুরুং নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও চার প্রার্থীর জয়ের পেছনে প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। দার্জিলিং আসনে নোমান রাই, কার্শিয়াংয়ে সোনম লামা, কালিম্পংয়ে অলিম্পিয়ান ভরত ছেত্রী এবং মাদারিহাটে লক্ষ্মণ লিম্বুর হয়ে গুরুংয়ের প্রচার পাহাড়ের গোর্খা ভোটকে এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং আসনটি জিএনএলএফ-এর হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং মাদারিহাটে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে গেরুয়া শিবিরের ছাড়পত্র দেওয়ানো ছিল গুরুংয়ের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। গণনার শেষে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইভিএমে কড়া জবাব দিয়েছে।
জয়ের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকে হাতিয়ার করে গুরুংয়ের আক্রমণাত্মক প্রচার জনমনে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজু বিস্তার জয়ের পেছনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এবারের জয়ের ফলে পাহাড়ের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান যেমন মজবুত হলো, তেমনই রাজ্য রাজনীতির দর কষাকষিতে গুরুংয়ের গুরুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে গেল। এই ফলাফল গোর্খা রাজনীতিতে অন্যান্য স্থানীয় শক্তির তুলনায় গুরুংয়ের মোর্চাকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল, যা আগামী দিনে পাহাড়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে।
