মমতাকে ছুড়ে ফেলার ডাক হিমন্তের, বাংলায় তীব্র হচ্ছে সাংবিধানিক সংকট

মমতাকে ছুড়ে ফেলার ডাক হিমন্তের, বাংলায় তীব্র হচ্ছে সাংবিধানিক সংকট

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফলে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে কুর্সি না ছাড়লে তাঁকে বরখাস্ত করাই এখন একমাত্র পথ। বাংলার মানুষ আর এই শাসন সহ্য করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইস্তফা দিতে অনড় মমতা ও কারচুপির অভিযোগ

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেত্রী। রাজভবনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল হারেনি, বরং ইভিএম দখল করে বিজেপি জিতেছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ ৬ মে শেষ হতে চলায় প্রশ্ন উঠেছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে তিনি আদৌ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কি না।

আইনি ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য পরিণতি

প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান সংবিধানের পরিপন্থী। আইনজীবী শেখর নাফাদে জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য। তিনি যদি তা না করেন, তবে রাজ্যপালের হাতে সরকার বরখাস্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। একইভাবে পিডিটি আচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো সরকারের ক্ষমতায় থাকার আইনি বিধান নেই। কোনো মামলার মাধ্যমে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানো গেলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা তাঁকে পদে বহাল রাখতে সাহায্য করবে না।

এই অনড় অবস্থানের ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক শূন্যতা ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে, যা রাজ্যের রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *