ভোট মিটতেই রক্তাক্ত নানুর, তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত বীরভূম

বীরভূমে বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক হিংসা। ভোট পরবর্তী উত্তেজনায় এবার প্রাণ হারালেন আবীর শেখ (৪৫) নামে এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। নানুর থানার অন্তর্গত সন্তোষপুর গ্রামের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করা হয়েছে।
পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
মঙ্গলবার বিকেলে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে অতর্কিতে হামলার শিকার হন আবীর শেখ। নির্জন এলাকায় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। নিহতের পরিবারের দাবি, এলাকায় তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। এই ঘটনার পর শোকস্তব্ধ পরিবারের আর্তনাদে গ্রামজুড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
উত্তপ্ত রাজনীতি ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে কড়া বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিজেপি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা বা শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল হতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নানুর থানা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গ্রামে রুট মার্চ শুরু করেছেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দুষ্কৃতীদের ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
