পুলিশ আসতেই পর্দাফাঁস! লজের গোপন আস্তানায় কী চলছিল? হাতেনাতে পাকড়াও পাণ্ডা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের পুণে সংলগ্ন আম্বেগাঁও এলাকায় একটি নামী লজে অভিযান চালিয়ে বড়সড় এক যৌন ব্যবসার চক্র ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফকিং সেলের এই ঝটিকা অভিযানে লজের একটি বন্ধ ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় লজের অন্ধকার জগতের তথ্য সামনে আসায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশি ফাঁদ ও রুদ্ধশ্বাস অভিযান
গোপন সূত্রে খবর ছিল যে, পুণে-সাতারা রোডের ‘দ্বারকা লজিং অ্যান্ড বোর্ডিং’-এ দীর্ঘদিন ধরে নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা চালানো হচ্ছে। খবরের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ পরিদর্শক ছগন কাপসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পুলিশ প্রথমে এক ছদ্মবেশী খদ্দের পাঠিয়ে লজটিতে যৌন ব্যবসার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর সংকেত পাওয়ামাত্রই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সদস্যরা সেখানে হানা দেন। আচমকা এই অভিযানে লজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা পালানোর কোনো সুযোগ পায়নি।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযান চলাকালীন পুলিশ শচীন বাবুরাও গায়কোয়াড় (২৮) নামের এক দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত যুবক পুণের কোন্ধোয়া এলাকার বাসিন্দা হলেও তার আদি বাড়ি লাতুর জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার তরুণীকে প্রলোভন দেখিয়ে এই ব্যবসায় নামানো হয়েছিল। বর্তমানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে আম্বেগাঁও থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন (PITA)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো পাচারকারী চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় লজের আড়ালে এমন অসামাজিক কার্যকলাপ জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
