প্রধানমন্ত্রীর ‘আপত্তিকর ছবি’ হাতে বিতর্ক! শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতেই কী সাফাই দিলেন অভিনেত্রী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট প্রশ্নফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কিন্তু সেই মিছিলের উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, মিছিলে শ্রীলেখার হাতে থাকা ওই পোস্টারে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি অত্যন্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর ছবি ছিল।
আনন্দপুর থানায় এফআইআর ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতার আনন্দপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। আনন্দপুর থানার কেস নম্বর ৩০২-এর ভিত্তিতে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক কঠোর ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে শান্তিভঙ্গের উস্কানি (ধারা ৩৫২), উস্কানিমূলক আচরণে প্রকাশ্য সমর্থন (ধারা ৩৫৩/২) এবং মানহানির (ধারা ৩৫৬/৩) মতো অভিযোগ।
বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ নিজে আনন্দপুর থানায় গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাসহ রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো দলীয় পরিচয় নয়, বরং দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন অশালীন ছবি দেখে তিনি চরম ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অভিনেত্রীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
সাফাই দিয়ে কী বললেন শ্রীলেখা মিত্র?
বিতর্ক চরমে উঠতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শ্রীলেখা মিত্র। নিজের চোখের সমস্যার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী সাফাই দিয়ে বলেন, “মিছিলে দৌড়াদৌড়ি হচ্ছিল, আমি পাওয়ারের চশমাটা নিতে ভুলেই গিয়েছিলাম। শুধু সানগ্লাস পরা ছিল। চারপাশে লাঠিচার্জ চলছিল, ভীষণ উত্তেজনার পরিবেশ ছিল। সেই মুহূর্তে না দেখেই পোস্টারটি হাতে তুলে নিয়েছিলাম, সেটা উল্টে বা ঘুরিয়ে দেখার সুযোগটুকুও পাইনি।”
বিজেপির পক্ষ থেকে গ্রেফতারির দাবির কড়া সমালোচনা করে শ্রীলেখা আরও বলেন, “ছবিটা দেখলেই বুঝতে পারবেন আসল ব্যাপারটি কী ছিল। আমি যতই বিজেপি-বিরোধী হই না কেন, আমাকে দেশদ্রোহী বলাটা যেমন হাস্যকর, তেমনই আমি ইচ্ছা করে ওই ইঙ্গিত করেছি ভাবাটাও হাস্যকর। আপনাদের যদি মনে হয় আমাকে গ্রেফতার করবেন, করুন। যদি মনে হয় ফাঁসিতে চড়াবেন, তাও করুন। তবে আমি নিশ্চিত, এ নিয়ে আবার একটা আন্দোলন হবে।”
