প্রলয়ংকরী হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপ নেপাল: শত শত প্রাণহানি, স্বজন হারিয়ে দিশেহারা হাজারও মানুষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একটি সাধারণ দিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন রাসুয়ার বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী ভূপেন থাপা। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই কানে আসে এক বিকট গর্জন। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখেন কাদাজলের এক প্রকাণ্ড ঢেউ ধেয়ে আসছে তাঁর দিকে। কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পারলেও চোখের সামনেই ভেসে যান তাঁর বাবা ও স্ত্রী। হড়পা বানের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আজও শিউরে উঠছেন তিনি।
হিমালয়ের কোল ঘেঁষে আসা এই আকস্মিক হড়পা বান ও বন্যায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। রাসুয়া থেকে শুরু করে নুয়াকোট জেলা—সর্বত্রই এখন শুধু হাহাকার আর মৃত্যুর গন্ধ। নুয়াকোটের বিদুরের বাসিন্দা দাওয়া লামা জানান, শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা আর জলে ডুবে গেছে, বেশিরভাগ বাড়ির একতলা পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের বড় একটি অংশই এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে এখন প্রিয়জনদের খোঁজে স্বজনহারাদের উপচে পড়া ভিড়। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন আয়ুষ তামাং। তিব্বত সীমান্তের কাছে কাজে যাওয়া তাঁর ১৯ বছরের ছোট ভাই বুধকাল থেকে নিখোঁজ। ফোনেও তাঁর আর কোনো সন্ধান মিলছে না।
শুধু নেপাল নয়, সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং এলাকাতেও এই বানের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং এখনও নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এর মাঝেই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল আর্মি ও উদ্ধারকারী দল। কাদার স্তূপ থেকে দুই যমজ শিশুকে জীবিত উদ্ধারের মতো অলৌকিক ঘটনা কিছু আশা জাগালেও, ক্রমাগত দুর্যোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ।
