‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী…’, দেওয়ালে নাম লিখে ৩ জনের আত্মহত্যা! ধনিয়াখালি কাণ্ডে পুলেশের জালে ৪ – এবেলা

‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী…’, দেওয়ালে নাম লিখে ৩ জনের আত্মহত্যা! ধনিয়াখালি কাণ্ডে পুলেশের জালে ৪ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হুগলির ধনিয়াখালির সোমসপুর দুলেপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গত শুক্রবার একই পরিবারের তিন সদস্য—উত্তম চাঁই (৫২), তাঁর স্ত্রী রূপা চাঁই (৪৫) এবং কন্যা অঙ্কিতা চাঁই (১৭)-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। যে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার হয়, তার দেওয়ালে পরিষ্কার অক্ষরে লেখা ছিল—‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ, ইন্দ্রাণী সিং রায়’ এবং অন্য একটি জায়গায় লেখা ছিল—‘আমাদের ৩ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, টিঙ্কু, মেয়ে, জামাই।’

ঘটনার তদন্তে নেমে ধনিয়াখালি থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলেন প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়, তাঁর মা ইন্দ্রাণী (টিঙ্কু) সিংহ রায় এবং স্বামী জয় সিংহ।

পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডানকুনির মূল বাসিন্দা উত্তম চাঁই কয়েক মাস আগে ধনিয়াখালিতে মধুমিতা সিংহ রায়ের বাড়িটি কেনার জন্য ৪ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়ে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। গত ১৬ আগস্ট প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মুর বাড়ি থেকে তালা না ভেঙে লক্ষাধিক টাকার সোনা চুরি হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের সন্দেহ গিয়ে পড়ে উত্তমের ওপর। জানা যায়, চুরি করা সোনা বিক্রি করেই উত্তম ৮ লক্ষ টাকা পান এবং সেখান থেকে বাড়ি কেনার অগ্রিম ৪ লক্ষ টাকা মেটান।

বিষয়টি জানাজানি হতেই রবীন্দ্রনাথ ও বাড়ির মালিক পরিবার উত্তমের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। জেরায় উত্তম চুরির কথা স্বীকার করেন এবং সোনা বিক্রির ৮ লক্ষ টাকা রবীন্দ্রনাথকে ফেরত দেন। তবে রবীন্দ্রনাথ চুরির সোনার বর্তমান বাজারদর হিসাব করে আরও ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন এবং একই সাথে মধুমিতা তাঁকে অবিলম্বে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল আর্থিক মানসিক চাপ, নিয়মিত হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়েই উত্তম পরিবারসহ চরম পথ বেছে নেন। ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রুজু করে শনিবার তাঁদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *