প্রশ্নপত্র ফাঁস করলেই ১ কোটি জরিমানা! সাথে ১০ বছরের জেল, জানুন কেন্দ্রের নয়া কড়া আইন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে গত কয়েক বছরে নিট (NEET-UG), ইউজিসি-নেট (UGC-NET) থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বারংবার ঘটে চলা এই অনিয়ম রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’ কার্যকর করেছে। ২০২৪ সালের ২১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনটির মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংগঠিত জালিয়াতি কঠোরভাবে দমন করা।
কঠোর শাস্তির বিধান ও আর্থিক জরিমানা
নতুন এই আইনের অধীনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন বা অসাধু উপায় অবলম্বন করেন, তবে তার ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে জালিয়াতি যদি ‘সংগঠিত অপরাধ’ (Organised Crime) হিসেবে প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা আরও ভয়াবহ। এ ক্ষেত্রে দোষীদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তড়িঘড়ি করে লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিতে এই বিলটি আইনে পরিণত হয়। বিশেষ করে নিট এবং ইউজিসি-নেট নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে বড় মাপের জালিয়াতি চক্রগুলোর ওপর লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলোতে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। একই সঙ্গে কড়া আইনি ব্যবস্থার ভয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
