প্রশ্নফাঁস করলেই সোজা ১০ বছরের জেল ও ৫০ লক্ষ জরিমানা! লোকসভায় পেশ হল ঐতিহাসিক অ্যান্টি-চিট বিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজির মধ্যেই সংসদের বাদল অধিবেশনে লোকসভায় পেশ করা হলো বহুচর্চিত ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সংসদে এই সংশোধনী বিলটি উপস্থাপন করেন।
সরকারি চাকরির ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সমস্ত অসাধু উপায় চিরতরে বন্ধ করতেই বিদ্যমান আইনে কড়াকড়ি আনার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। তবে বিল পেশের সময় বিরোধীদের প্রতিবাদের জেরে লোকসভায় চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উত্তাল সংসদ ও অধিবেশন মুলতবি
এদিন অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীদের হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। বিশেষ করে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হন বিরোধী সাংসদরা। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও প্রতিবাদের জেরে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় স্পিকার ও চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে উভয় কক্ষের কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।
উল্লেখ্য, NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা অচলাবস্থায় কার্যত ভেস্তে গিয়েছিল সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহ। সেই উত্তপ্ত পরিবেশের মাঝেই সোমবার ফের বসল অধিবেশন, যেখানে সরকারের মূল আইন প্রণয়নের এজেন্ডায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছিল এই নতুন পরীক্ষামূলক সংশোধনী বিলটি।
সংশোধনী বিলে কঠোর শাস্তির সংস্থান
সাংসদদের মধ্যে বিতরণ করা প্রস্তাবিত বিলের খসড়া অনুযায়ী, সরকারি কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনো অনৈতিক ও অসাধু উপায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। সরকারের আশা, এই কড়া আইন কার্যকর হলে আগামী দিনে দেশের চাকরির পরীক্ষাগুলিতে দুর্নীতি এবং প্রশ্নফাঁসের মতো প্রবণতা কঠোরহস্তে দমন করা সম্ভব হবে।
