প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যা, হাসপাতালে মালিক গ্রেফতার – এবেলা

প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যা, হাসপাতালে মালিক গ্রেফতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার প্রভাবশালী হাসপাতাল মালিক

উন্নাওয়ের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীর করুণ পরিণতি বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া এই তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রথমে ধর্ষণ, এরপর জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং সবশেষে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেভ কান্ত উত্তম নামক এক হাসপাতাল মালিকের বিরুদ্ধে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

নৃশংসতার শুরু ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

অভিযোগ রয়েছে, তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তাকে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত দেভ কান্ত। সেই দৃশ্য ভিডিও করে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন তিনি। তরুণী বিয়ে করতে বললে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ঘটনার ভয়াবহতা চরমে পৌঁছায় যখন তরুণী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরেই দেভ কান্ত তার এক আত্মীয় ও নিরাপত্তা রক্ষীর সহযোগিতায় তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহটি প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে বুলন্দশহরে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে মৃতদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ প্রথম দফায় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাহ করে। পরবর্তীতে তরুণীর মায়ের দেওয়া হাতের সুতো ও নাকছাবির সূত্র ধরে শনাক্ত হয় সেই নিথর দেহ।

রাজনৈতিক আশ্রয় ও বিচার প্রক্রিয়ার দাবি

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, মূল অভিযুক্ত দেভ কান্ত নিজেকে বিজেপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা করছিলেন। অপরাধ সংগঠনের পর আত্মরক্ষার অজুহাতে তিনি নিজেকে আহত করে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এমন নৃশংসতা সামাজিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে। ঘটনার দ্রুত ও কঠোর বিচারিক প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *