ফের বিপাকে অভিষেক! ডায়মন্ড হারবার থানায় ভোট পরবর্তী হিংসার জোড়া অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরই ফের আইনি গেরোয় জড়াতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রাক্তন বিজেপি নেতা অশোক বর্মন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার প্রবীর হালদার মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশকে সেই সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও প্রমাণও জমা দিয়েছেন।
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ভয়ংকর চিত্র
২০২১ সালের ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতির সময় থেকে এই আক্রোশের সূত্রপাত। অভিযোগকারী প্রবীর হালদারের দাবি, তিনি যখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষদের ত্রাণ দিচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় শাসকদলের নেতৃত্ব সেই ত্রাণের টাকা তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় দুষ্কৃতীরা রড ও লাঠি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়, মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং বোমা ছোড়ে। তৎকালীন সময়ে পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, তৎকালীন বিজেপি নেতা অশোক বর্মনকে বিরোধী দল করার অপরাধে বেধড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে কলকাতায় পালিয়ে চিকিৎসা করানো এই নেতা প্রায় এক বছর ঘরছাড়া ছিলেন এবং সেই সময়ে তাঁর কোনও অভিযোগই থানা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক পালাবদলে বিচারের নয়া আশা
এই ঘটনার মূল কারণ হলো ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। তবে বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কড়া বার্তা দেওয়ার পরেই আক্রান্তরা নতুন করে বিচার পাওয়ার সাহস পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত এফআইআর রুজু করার আশ্বাস দিয়েছে। এই অভিযোগগুলি আইনি পথে এগোলে তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি যেমন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তেমনই রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও ধামাচাপা পড়ে থাকা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাগুলি নতুন করে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
