ফ্যাশনের আড়ালে লুকিয়ে মারাত্মক বিপদ, হেয়ার কালার নিয়ে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশিকায় বাড়ছে উদ্বেগ! – এবেলা

ফ্যাশনের আড়ালে লুকিয়ে মারাত্মক বিপদ, হেয়ার কালার নিয়ে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশিকায় বাড়ছে উদ্বেগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফ্যাশনের ছোঁয়া দিতে কিংবা পাকা চুল ঢাকতে ‘হেয়ার কালার’ এখন আট থেকে আশির দারুণ পছন্দ। তবে যে কৃত্রিম রঙে চুল রাঙিয়ে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে, তার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। সম্প্রতি দেশের ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা সিডিএসসিও (CDSCO) হেয়ার কালার প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের জন্য একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) এবং কসমেটিকস রুলস ২০২০ মেনে প্যাকেটের গায়ে সমস্ত ক্ষতিকর উপাদানের নাম ও সতর্কবার্তা লেখা বাধ্যতামূলক করার এই কড়াকড়ির পর থেকেই চিকিৎসকমহল এবং সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মাথার ওপর এক মিনি রসায়নাগার

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবার চুলে রঙ করার সময় মাথার ত্বকে আক্ষরিক অর্থেই একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। চুলের বাইরের স্তর ভেঙে ভেতরে কৃত্রিম রঙ প্রবেশ করাতে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়। অ্যামোনিয়ার তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ চোখ, ত্বক ও শ্বাসনালীতে অস্বস্তি তৈরি করে এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইড চুলকে রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তোলে। এছাড়া ডার্ক শেডের রঙে থাকা টলুইন-২,৫-ডায়ামিন তীব্র অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। কিছু পণ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্টকারী রিসোর্সিনল, নিষিদ্ধ লেড অ্যাসিটেট এবং স্থায়িত্বের জন্য কোল টার বা আলকাতরার উপজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথা পিপিডি

হেয়ার কালারের উপাদানগুলোর মধ্যে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা প্যারা-ফেনিলিনডায়ামিন বা পিপিডি (PPD) নামক রাসায়নিকটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। চুলে দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ় রঙ ধরে রাখতে এটি ব্যবহৃত হলেও, এটিই মূলত তীব্র অ্যালার্জির প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, পিপিডি-র কারণে সাধারণ চুলকানি থেকে শুরু করে মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের চারপাশে লালচে ভাব, মারাত্মক ডার্মাটাইটিস (ত্বকের প্রদাহ) এবং মুখে দীর্ঘস্থায়ী কালচে দাগ বা পিগমেন্টেশনের মতো সমস্যা হতে পারে। একবার এই অ্যালার্জি তৈরি হলে তা সাধারণত সারাজীবন থেকে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পাকা কোনও রোগ নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত হেয়ার কালার ব্যবহারে চুল ভাঙা ও পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভিটিলিগো, একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এমনকি হেয়ার কালার ও স্ট্রেটনারে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির যোগসূত্র নিয়েও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মনে সংশয় রয়েছে। এই কারণেই চুলে যেকোনো রঙ লাগানোর অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে কানের পেছনে বা কনুইয়ের ভেতরের ত্বকে ‘প্যাচ টেস্ট’ করা বাধ্যতামূলক বলে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কেন্দ্রের এই নতুন নিয়মের ফলে বাজারে অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের ব্যবহার কমবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *