বড় ঘোষণা: বাংলায় এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ গতির জোয়ার, আয়ুষ্মান ভারত থেকে আবাস যোজনা—কোন কোন থমকে থাকা প্রকল্পে মিলবে ছাড়পত্র? – এবেলা

বড় ঘোষণা: বাংলায় এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ গতির জোয়ার, আয়ুষ্মান ভারত থেকে আবাস যোজনা—কোন কোন থমকে থাকা প্রকল্পে মিলবে ছাড়পত্র? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শনিবার ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় নিলেও, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালুর তোড়জোড় শুরু করেছে দিল্লি। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতা বা রাজনৈতিক মতভেদের কারণে যেসব জনকল্যাণমূলক কাজ থমকে ছিল, সেগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যকর করাই এখন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্রের বিশেষ তৎপরতা

সূত্রের খবর, রাজ্যে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য তলব করেছেন এবং মন্ত্রকগুলো সেই রিপোর্ট জমা দিতে শুরু করেছে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল সরকারের সঙ্গে সংঘাতের জেরে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো একাধিক বড় প্রকল্প বাংলায় থমকে ছিল। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রভাব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্রকল্পগুলি দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও কৃষিতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা

দীর্ঘদিনের বিবাদ কাটিয়ে বাংলায় এবার চালু হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প, যেখানে যোগ্য পরিবারগুলো ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাবেন। এছাড়া পিএম কিষান নিধি এবং প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমা যোজনা পূর্ণ শক্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারতের অনুমোদন দেওয়া হবে। আবাস যোজনার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত উপভোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

পরিকাঠামো ও সীমান্ত নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার

আর্থিক প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে নতুন সরকার। জল জীবন মিশনের তহবিল ব্যবহার করে ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং মৎস্য সম্পদ যোজনার কার্যকর প্রয়োগে জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, জমি জটিলতায় আটকে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজকে এবার অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই রণকৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, উন্নয়নের গতি বাড়িয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাইছে তারা।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পরেই বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর প্রস্তুতি শুরু।
  • আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো থমকে থাকা প্রকল্প দ্রুত কার্যকর হবে।
  • প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে আটকে থাকা প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া এবং জল জীবন মিশনের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *