বড় চমক: ট্রাম্প-জিনপিং সাক্ষাৎ কী ভারতের জন্য অশনিসংকেত? জানুন নেপথ্যের সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফর ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ১৪ মে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও চীনের এই মেলামেশা কিংবা তিক্ততা—উভয় পরিস্থিতিই নয়াদিল্লির জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অপ্রত্যাশিত মেরুকরণ ও ভারতের উদ্বেগ
গত দুই দশক ধরে ভারত মূলত আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে নিজের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করেছে। কোয়াড গঠন থেকে শুরু করে স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর—সবক্ষেত্রেই চীনের বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটন ভারতকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চিত্রটি দ্রুত বদলাচ্ছে। ট্রাম্পের পাকিস্তান-ঘেঁষা নীতি এবং এখন চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা ভারতকে একঘরে করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। যদি এই বৈঠকে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে ভারত কার্যত আমেরিকা-চীন-পাকিস্তান ত্রিভুজের চাপের মুখে পড়বে। অন্যদিকে, বৈঠক ব্যর্থ হলে বাণিজ্য ও কূটনীতির প্রশ্নে ভারতকে যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
চিন ও আমেরিকার বদলে যাওয়া অবস্থান
সম্প্রতি ইরানি তেল ব্যবহারের অজুহাতে চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি এবং বেইজিংয়ের পাল্টা হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে বিশ্ব দেখছে ভিন্ন চোখে। এদিকে চীনও ভারতের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর এক বছর পূর্তিতে বেইজিং প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তারা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরোধিতা করেছিল। অর্থাৎ, একদিকে ভারতের তথাকথিত মিত্র আমেরিকা যখন বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনও সরাসরি ভারতবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকার চীন-বিরোধী নীতির সুবিধা ভোগ করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া দিল্লির বিদেশনীতির জন্য বড় বিপদ। আমেরিকা যদি তার বাণিজ্য স্বার্থে চীনের সঙ্গে হাত মেলায়, তবে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারতের গুরুত্ব কমতে পারে। ভারতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখা এবং বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। ১৪ মে-র বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর এশীয় রাজনীতিতে ভারতের ভাগ্য।
