বদলে যাচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গলের গায়ের রং! জিনগত সংকট রুখতে সাফারি পার্কে এলো সাদা বাঘিনি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি এবং দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের মধ্যে অবশেষে সফলভাবে সম্পন্ন হলো বাঘ বিনিময় প্রক্রিয়া। শৈলশহরে পর্যটকদের ভিড় কমতেই গ্রিন করিডর তৈরি করে এই স্থানান্তর করা হয়। বেঙ্গল সাফারি থেকে ‘শীলা’ ও ‘বিভান’-এর আড়াই বছর বয়সি কন্যা ‘এস২’ নামের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে পাঠানো হয়েছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায়। অন্যদিকে, দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির সাফারিতে নিয়ে আসা হয়েছে দশ বছর বয়সি সাদা বাঘিনি ‘নাগমণি’-কে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিময় কেবল চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়াবে না, বরং বাঘেদের অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইনব্রিডিং বা জিনগত সংকটের আশঙ্কা
বেঙ্গল সাফারিতে বাঘের সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের মধ্যে প্রজনন বা ‘ইনব্রিডিং’ চলছিল। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বছরের পর বছর ধরে একই বংশধারার মধ্যে প্রজনন চলতে থাকলে মারাত্মক জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর আগে ওড়িশার সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানে এই ধরনের সংকটের কারণে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের গায়ের স্বাভাবিক হলুদ-কালো ডোরাকাটা রং বদলে যেতে দেখা গেছে, এমনকি অনেক বাঘ কালো হয়ে গেছে। বেঙ্গল সাফারির বাঘ্রকুলে যাতে এমন বিকৃতি বা জিনগত সমস্যা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই দার্জিলিং থেকে সাদা বাঘিনি নাগমণিকে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে সাফারির বাঘেদের জিনগত বৈচিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বংশগত রোগ বা বিকৃতির ঝুঁকি কমবে।
পর্যটনে নতুন জোয়ার ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই বাঘ বিনিময়ের ফলে দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতেও পর্যটকদের দীর্ঘদিনের এক অভাব পূরণ হতে চলেছে। সেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘সম্রাট’ বৃদ্ধ হয়ে পড়ায় তাকে দর্শকদের নজর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে চিড়িয়াখানায় সাইবেরিয়ান বাঘ থাকলেও পর্যটকরা হলুদ-কালো ডোরাকাটা ঐতিহ্যবাহী রয়্যাল বেঙ্গলের দর্শন পাচ্ছিলেন না। নতুন বাঘিনি ‘এস২’ আসায় দর্শকরা আবার সেই চেনা রূপ দেখতে পাবেন, যা শৈলশহরের পর্যটনকে আরও চাঙ্গা করবে। বর্তমানে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সাদা বাঘিনি নাগমণিকে বেঙ্গল সাফারিতে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। দার্জিলিং থেকে আসা তার বিশেষ কিপারের তত্ত্বাবধানে সে নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সাথে অভ্যস্ত হচ্ছে।
