বদলে যাচ্ছে হাওড়া স্টেশন! আধুনিক পরিষেবা ও উন্নত পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্তের সূচনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হাওড়া স্টেশন এখন আধুনিকতার স্পর্শে সম্পূর্ণ নতুন রূপে উদ্ভাসিত। গত এক দশকে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার এবং হাওড়ার ডিআরএম বিশাল কাপুরের নেতৃত্বে এই স্টেশনটি তার পুরনো জীর্ণ দশা কাটিয়ে এক অত্যাধুনিক রূপ ধারণ করেছে। মূলত যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং প্রতিদিনের ভিড় সামলাতে পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই রূপান্তর কেবল পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং প্রতিদিন এই স্টেশনে পা রাখা অগণিত ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ সফরের এক বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি।
প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে হাওড়া স্টেশনের একাধিক প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি ৩১২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৫৯১ মিটার এবং নতুন ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি ৫৮১ মিটার করা হয়েছে, যা অনায়াসে ২৪ কোচের বড় মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন ধারণ করতে সক্ষম। এছাড়া ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মটিকে লোকাল ট্রেনের জন্য এবং ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটিকে ৬৩৫ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ করে আধুনিক সাজে সাজানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ১০ থেকে ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মগুলিকেও একইভাবে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও মেট্রো সংযোগ
ইয়ার্ড রিমডেলিং-এর মাধ্যমে ১ থেকে ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিরাপদ এলএইচবি কোচের উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য পুরনো ও নতুন কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক এগজিকিউটিভ লাউঞ্জ ও উন্নত আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ পালকটি হলো ৮,৫৭৪.৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডোর। গঙ্গার তলদেশ দিয়ে হাওড়া ও শিয়ালদহের এই অনন্য সংযোগ শহরের চিরচেনা যানজটের অবসান ঘটিয়ে নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
এক ঝলকে
- আধুনিকীকরণের ফলে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এখন ২৪ কোচের বড় মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন অনায়াসে দাঁড়াতে পারছে।
- ইয়ার্ড রিমডেলিং ও এলএইচবি কোচের ব্যবহারের মাধ্যমে রেল সফরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক করা হয়েছে।
- গঙ্গার নিচ দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চলাচলের ফলে হাওড়া ও শিয়ালদহের মধ্যে যাতায়াতের সময় এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে।
- যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে স্টেশনে নতুন এগজিকিউটিভ লাউঞ্জ এবং খাবার ও বিশ্রামের উন্নত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
