বন্ধুকে লিখেছিলেন ‘ফেঁসে গেছি’, পরদিন শ্বশুরবাড়িতে মিলল দেহ! কী হয়েছিল অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সঙ্গে? – এবেলা

বন্ধুকে লিখেছিলেন ‘ফেঁসে গেছি’, পরদিন শ্বশুরবাড়িতে মিলল দেহ! কী হয়েছিল অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সঙ্গে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভোপালে। ‘আমি ফেঁসে গিয়েছি রে… তুই শুধু ফাঁসিস না’— মৃত্যুর ঠিক আগের দিন বন্ধুকে পাঠানো ৩১ বছর বয়সি তিশা শর্মার এই শেষ বার্তাটি এখন তাঁর মৃত্যুর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা গভীর রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলসের শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তাঁর পরিবার।

নয়ডার বাসিন্দা তিশার সঙ্গে ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল পেশায় আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। লাগাতার অতিরিক্ত পণ দাবির পাশাপাশি তিশাকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনগুলোতেও তিশা নয়ডায় নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে আসার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ

ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার। তাঁদের দাবি, তিশার শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনার পর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তিশার পরিবার। প্রথম ময়নাতদন্তে গুরুতর গাফিলতি ছিল উল্লেখ করে দিল্লির এইমস-এ (AIIMS) দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সাথে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিশার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার।

প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ঘোরানোর আশঙ্কা

এই মৃত্যুর পেছনে তিশার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে ঘটনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) পুরো ঘটনাটির তদন্তভার গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালা সিং আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন এবং স্বামী সমর্থ সিংয়ের আগাম জামিনের শুনানি চলছে। তিশার শেষ বার্তা এবং পরিবারের অনড় অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *