বাংলাদেশে পাক বিমানবাহিনীর এন্ট্রি: ঢাকায় হাজির ‘পোস্টার বয়’ আওরঙ্গজেব, ভারত সীমান্তে বাড়ছে তৎপরতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই দলটি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। আওরঙ্গজেব আহমেদ পাকিস্তানের সামরিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ, যাকে গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে দেখা গিয়েছিল। তার এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সীমান্তের কাছে প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো নির্মাণ
রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘এয়ার স্টাফ টক’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের বিমান বাহিনীর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলটি ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত লালমনিরহাট এবং বগুড়া বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করতে পারে। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই ঘাঁটিগুলোতে বিমান প্রতিরক্ষা রাডার স্থাপন এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে ৩.২ কিলোমিটারে উন্নীত করার বিষয়টি সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও কৌশলগত প্রভাব
এই সফরের অন্তরালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিমান কেনাবেচার গুঞ্জন প্রচার করে আসছে। বর্তমান সফরটি সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় রাডার ও ড্রোন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি পাকিস্তানের সাথে এই সামরিক যোগাযোগ ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভেতরে কট্টরপন্থী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেশী দেশগুলো এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
