বাংলায় এবার ‘যোগী-মডেল’! দাঙ্গাবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে জোড়া বিল আনছে শুভেন্দু সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এবার উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে রাজ্যে ‘বুলডোজার নীতি’ কার্যকর করতে এবং তোলাবাজ ও দাঙ্গাকারীদের সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বিধানসভায় জোড়া বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার।
আগামী সোমবার বিধানসভার একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশনে এই বিল দুটি পেশ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত বিধায়কদের কাছে এই বিলের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভায় পেশ হতে চলা জোড়া বিল:
১. The West Bengal Public Safety and Control of Anti-social Activities Bill, 2026
২. The West Bengal Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026
নতুন বিলে কী কী কড়া পদক্ষেপ থাকছে?
- ক্ষতিপূরণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: রাজনৈতিক দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা হিংসাত্মক বিক্ষোভে সরকারি সম্পত্তি (যেমন- বাস, ট্রেন, অফিস) ভাঙচুর বা পোড়ানো হলে দাঙ্গাকারীদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। ঘটনা ঘটার ৩ মাসের মধ্যে জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ক্লেমস কমিশন’-এর কাছে আবেদন জানাবেন এবং এই কমিশনই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
- বিনা জামিনে জেল: বেআইনি দখল, বালি ও খনি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো অপরাধে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটকে রাখার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনকে। আইন ভাঙলে তা জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এলাকা থেকে নির্বাসন: প্রয়োজনে অপরাধীকে কোনও নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে নির্বাসিত (Externment) করার বিশেষ ক্ষমতাও থাকছে এই বিলে।
- প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলাশাসক (DM), পুলিশ কমিশনার (CP) এবং রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে:
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে থাকা আইন ‘অসামাজিক কার্যকলাপ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ’ রোধে যথেষ্ট নয়। তাই সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই নতুন আইনি কাঠামো আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, অসামাজিক কার্যকলাপ দমনের আড়ালে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই বিল পাশ করাতে চাইছে বর্তমান সরকার।
