বাংলায় কি এবার পরিবর্তন? এক্সিট পোলে বিজেপির ঝোড়ো ব্যাটিং, মোদীকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ডেরেক!

বাংলায় কি এবার পরিবর্তন? এক্সিট পোলে বিজেপির ঝোড়ো ব্যাটিং, মোদীকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ডেরেক!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই সামনে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল। ম্যাট্রিক্স বা পি-মার্কের মতো সংস্থাগুলি রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও, ‘পিপলস পালস’-এর সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই বিপরীতমুখী তথ্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাগযুদ্ধ, যার আঁচ পৌঁছেছে জাতীয় স্তর পর্যন্ত।

সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক সংঘাত

বুথফেরত সমীক্ষার এই পূর্বাভাসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ২০২১ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেবারও অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থা বিজেপি-র জয়ের কথা বললেও বাস্তবে তৃণমূল ২১৩টি আসন নিয়ে জয়ী হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ৪ মে ফলাফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে গেলে নৈতিক পরাজয় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই সমীক্ষাকে শাসকদলের রাজনৈতিক অবলুপ্তির ইঙ্গিত বলে কটাক্ষ করেছেন।

নিরাপত্তা ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রোধে এবং শান্তি বজায় রাখতে রাজ্য থেকে এখনই কেন্দ্রীয় বাহিনী সরাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। সিআরপিএফ-এর মহানির্দেশক জি পি সিং জানিয়েছেন, ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী আপাতত পশ্চিমবঙ্গেই মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে ২০০ কো ম্পা নি সিআরপিএফ সহ বিএসএফ, সিআইএসএফ এবং আইটিবিপি-র জওয়ানরা স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও স্পর্শকাতর এলাকায় টহল দেওয়ার দায়িত্বে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক ঝলকে

  • বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
  • ২০২১ সালের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে সমীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
  • ভোট মিটলেও রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
  • ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *