যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ববাজার: ১২০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, পকেটে টান পড়তে পারে সাধারণ মানুষের!

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ববাজার: ১২০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, পকেটে টান পড়তে পারে সাধারণ মানুষের!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধকালীন উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অশনিসংকেত দিচ্ছে।

উৎপাদন ও সরবরাহে অচলাবস্থা

ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান না মিললে তেলের দাম খুব শীঘ্রই ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। গত মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে দাম কিছুটা কমলেও বর্তমান পরিস্থিতি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার পথে।

জনজীবনে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে। আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় ভারতের পরিবহণ ক্ষেত্র, বিশেষ করে বিমান ও পণ্যবাহী যানবাহনের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি টায়ার, রং ও রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এক ঝলকে

  • ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
  • ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২১ ডলার ছাড়িয়েছে এবং ১৫০ ডলার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
  • পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে চরম মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতসহ বিশ্ব অর্থনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *