“সব ভারতীয়র ডিএনএ-তে মহাদেব!” জামিয়া উপাচার্যের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক, ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্র সংগঠনগুলো

“সব ভারতীয়র ডিএনএ-তে মহাদেব!” জামিয়া উপাচার্যের মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক, ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্র সংগঠনগুলো

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) মজহর আসিফের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আরএসএস আয়োজিত ‘যুব কুম্ভ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন যে, ভারতের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি বা ধর্ম আলাদা হলেও সবার ডিএনএ-তে ‘মহাদেব’ রয়েছেন। এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।

বিতর্কিত মন্তব্য ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন উপাচার্যের এই বক্তব্যকে ‘অৈজ্ঞানিক’ এবং ‘পশ্চাৎপদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এই ধরনের মন্তব্য বৈজ্ঞানিক চেতনার পরিপন্থী। বিক্ষোভকারীদের দাবি, উপাচার্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শকে তুষ্ট করতেই এই ধরণের উসকানিমূলক কথা বলছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করছে।

ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতায় ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলাকালীন প্রক্টোরিয়াল টিম ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের মারধর করে সরিয়ে দেয়। একদিকে যখন সাধারণ ছাত্র কার্যক্রমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, অন্যদিকে আরএসএস-এর মতো সংগঠনের কর্মসূচিকে প্রশাসনের সরাসরি মদত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

এক ঝলকে

  • জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ভিসি মজহর আসিফ দাবি করেছেন সব ভারতীয়র ডিএনএ-তে মহাদেব আছেন।
  • এসএফআই ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠন এই বক্তব্যকে অবৈজ্ঞানিক ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানিয়েছে।
  • অনুষ্ঠান চলাকালীন বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর প্রশাসনিক হামলার অভিযোগ উঠেছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *