বাংলায় গেরুয়া সুনামি, নিজের গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ একঝাঁক হেভিওয়েট মন্ত্রী

বাংলায় গেরুয়া সুনামি, নিজের গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ একঝাঁক হেভিওয়েট মন্ত্রী

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। সোমবার সকালে ব্যালট বক্স এবং পরবর্তী সময়ে ইভিএম খোলার পর থেকেই গেরুয়া ঝড়ের যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা আক্ষরিক অর্থেই সুনামিতে পরিণত হয়েছে। দুই শতাধিক আসন দখল করে বাংলায় ক্ষমতা দখলের পথে বিজেপি। আর এই প্রবল ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেন শাসকদলের একঝাঁক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতৃত্ব।

ধরাশায়ী তৃণমূলের দুর্গ ও হেভিওয়েট মন্ত্রীরা

তৃণমূল সুপ্রিমোর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সৈনিক হিসেবে পরিচিত মন্ত্রীরা নিজেদের গড় সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। টালিগঞ্জের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারীর কাছে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। কলকাতার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শ্যামপুকুরে হারের মুখ দেখেছেন শশী পাঁজা। সেখানে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী তাঁকে ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে পরাজিত করেছেন। উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলেও ঘাসফুল শিবিরের বিপর্যয় স্পষ্ট। দমদমে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ২৫ হাজার ২৭৩ ভোটে এবং দমদম উত্তর কেন্দ্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

বিধাননগর ও তৎসংলগ্ন এলাকাতেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে। পাশাপাশি, সিঙ্গুরের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কেন্দ্রে মন্ত্রী বেচারাম মান্না ২১ হাজার ৪৩৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অরূপকুমার দাসের কাছে। চন্দননগরেও হার মানতে হয়েছে গায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে।

জেলায় জেলায় মন্ত্রীদের পতন ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কলকাতার বাইরেও মন্ত্রীদের হারের তালিকা বেশ দীর্ঘ। কোচবিহারের দিনহাটায় তিনবারের বিধায়ক উদয়ন গুহকে ১৭ হাজার ৪৪৭ ভোটে পরাজিত করেছেন বিজেপির অজয় রায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্ষীয়ান নেতা মানসরঞ্জন ভুঁইয়া সবং কেন্দ্রে এবং আসানসোল উত্তরে মলয় ঘটক পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীদের কাছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে পূর্বস্থলী দক্ষিণে জয়ী হয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে জনমানসে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির মেরুকরণ ও উন্নয়নমুখী প্রচারের প্রভাব। হেভিওয়েট মন্ত্রীদের এই হার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ বা ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত এলাকাগুলোতেও ভোটাররা নতুন বিকল্প বেছে নিয়েছেন। এই বিপুল জয়ের ফলে রাজ্যে যেমন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে, তেমনই হেভিওয়েটদের এই পতন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও প্রকট করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *