বাংলার মসনদে পরিবর্তনের হাওয়া, ১৫০ পার করে ম্যাজিক ফিগারের পথে বিজেপি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এক অভাবনীয় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, নজিরবিহীন ট্রেন্ডে গেরুয়া শিবির ১৫০-র গণ্ডি পার করে ইতিমধ্যে ‘ম্যাজিক ফিগার’ (১৪৫) অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১১২টি আসনে এগিয়ে থেকে ব্যবধান কমানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬-এর এই মহারণে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে জলহাটি কেন্দ্র, যেখানে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ তৃণমূলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
পরাজয়ের মুখে হেভিওয়েটরা ও রত্নার হুঙ্কার
জলহাটির হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে রত্না দেবনাথের এই লিড রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভোট গণনার সকালে আবেগপ্রবণ রত্না তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাতের ডাক দিয়ে জানান, এই লড়াই তাঁর মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার সংগ্রাম। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে তাঁর মেয়ের পরিণতির জন্য দায়ী করে দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ এবার শাসকদলকে উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। শুধু জলহাটি নয়, স্বয়ং ভবানীপুর কেন্দ্রেও পিছিয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; সেখানে ১৫০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরজি কর কাণ্ড ও নারী সুরক্ষা ইস্যুর প্রভাব
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, আরজি করের মর্মান্তিক ঘটনা এবং রাজ্যে নারী সুরক্ষার বিষয়টিই শাসকদলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৯২ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান এবং বর্তমান গণনার গতিপ্রকৃতি প্রমাণ করছে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছিল যে প্রশাসন স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছে এবং কলকাতা নিরাপদ শহর, কিন্তু প্রাথমিক ফলাফল সেই দাবির বিপরীতে এক গভীর প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ফলাফল পরবর্তী কোনো বিজয় মিছিল বা র্যালি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। দিনের শেষে এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
