বাঙালি বধূ দীপিকার বিশ্বজয়, ৫ বছর পর তিরন্দাজে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত – এবেলা

বাঙালি বধূ দীপিকার বিশ্বজয়, ৫ বছর পর তিরন্দাজে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সালে সাংহাইয়ের মাটিতে রচিত হলো ভারতীয় তিরন্দাজির এক সোনালি ইতিহাস। চিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকে এবং স্নায়ুর লড়াইয়ে জিতে তিরন্দাজি বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব ছিনিয়ে নিল ভারত। দীপিকা কুমারী, অঙ্কিতা ভকত এবং উদীয়মান তারকা কুমকুম মোহোদের ত্রয়ী ফাইনালে চিনা প্রাচীর ভেঙে ভারতকে এনে দিলেন বহুকাঙ্ক্ষিত স্বর্ণপদক। রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪-৪ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর, টাই-ব্রেকারে ২৮-২৬ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত করে নীল জার্সিধারীরা।

সেমিফাইনালে কোরিয়া বধ ও ঐতিহাসিক জয়

ভারতের এই জয়ের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। সেমিফাইনালে ১০টি অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ আসরে মহিলা রিকার্ভ দলগত শিরোপা জিতল দেশ। দলের অভিজ্ঞ সদস্য ও ‘বাঙালি বধূ’ দীপিকা কুমারীর ক্যারিয়ারে এটি সপ্তম বিশ্বকাপ দলীয় স্বর্ণপদক। এই জয়ের মাধ্যমে রিকার্ভ বিভাগে দীর্ঘ তিন বছরের পদক খরাও কাটাল ভারত।

টাই-ব্রেকারের স্নায়ুর লড়াই

ফাইনালের শুরুটা ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে করলেও মাঝপথে ছন্দপতন ঘটেছিল। প্রথম সেটে দীপিকার লক্ষ্যভেদে ভারত ৫৪-৫৩ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ায় চিন। বিশেষ করে তৃতীয় সেটে একটি সফল রিভিউর মাধ্যমে পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চিনা কন্যারা। পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে চতুর্থ সেটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন দীপিকা। খেলা টাই-ব্রেকারে গড়ালে মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ভারত শেষ হাসি হাসে।

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের রসায়ন

পুরো টুর্নামেন্টে কোনো প্রধান কোচ ছাড়াই দীপিকার নেতৃত্বে লড়াই চালিয়েছে ভারতীয় দল। অভিজ্ঞ দীপিকা একদিকে যেমন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্যদিকে অঙ্কিতা ও কুমকুমের মতো তরুণদের আগলে রেখেছেন। অন্যদিকে, চিনের তরুণ দলটি শক্তিশালী লড়াই দিলেও অভিজ্ঞতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়। সাংহাইতে ভারতের এই জয় বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় তিরন্দাজির আধিপত্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। এই সাফল্যের ধারা আগামী অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ভারতীয় অ্যাথলিটদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *