বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির চেষ্টা, দুর্গাপুরে আটক একাধিক তৃণমূল শ্রমিক নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি সচল রাখার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার ক্ষমতাসীন বিজেপির নাম ভাঙিয়ে নতুন করে সিন্ডিকেট চালানোর চক্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের একাংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের বনগ্রাম এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় রাখার নেপথ্যে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের রাশ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের একাংশের হাতে ছিল। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে সেখানে শ্রমিক নিয়োগ করা হত। এই সিন্ডিকেট চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কোর কমিটির সদস্য শেখ মনি, আকবর আলি এবং রসুল মিয়া সহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রটি পর্দার আড়ালে থেকে তাদের পুরনো সাম্রাজ্য ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পরিকল্পিত বৈঠক ও পুলিশের তৎপরতা
বিজেপির দাবি, দলের নাম ব্যবহার করে নতুন করে তোলাবাজি ও কাটমানি রাজ কায়েম করার উদ্দেশ্যে বনগ্রাম এলাকায় গোপনে একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল শ্রমিক নেতারা। খবর পেয়েই বিজেপির কর্মীরা সেখানে চড়াও হন এবং তাদের ধাওয়া করেন। বেগতিক বুঝে মূল অভিযুক্ত শেখ মনি, আকবর আলী ও রসুল মিয়া এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
বিজেপির যুব মোর্চার নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নতুন জমানায় কোনও ধরনের তোলাবাজি বা কাটমানি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের কাছে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্তরা এখনও পলাতক থাকায় এলাকায় পুলিশি তল্লাশি জারি রয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
