বিজেপি কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টা! ক্যানিংয়ে পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

বিজেপি কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টা! ক্যানিংয়ে পুলিশের জালে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা উত্তম দাস। ধৃত উত্তম দাস ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের দাদা। শুক্রবার রাতে ক্যানিংয়ের মিঠাখালি গ্রামে নিজের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তবে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ওই তৃণমূল নেতাকে আটকানোর সময় পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্বয়ং বিধায়ক পরেশরাম দাস এবং তাঁর অনুগামীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৪ মে বিজেপির একটি মিছিলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। সেই সময় প্রকাশ্য দিবালোকে মিছিলে গুলি চালানোর মূল অভিযোগ ওঠে এই উত্তম দাসের বিরুদ্ধে। গুলিতে এক বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হলেও অল্পের জন্য তাঁর প্রাণ রক্ষা পায়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় প্রভাবশালী ও দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত উত্তমের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে জালে তোলা হয়।

ফলতাতেও পুলিশি অ্যাকশন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনারই ফলতাতে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগেই ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ চরম সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাইদুল খানকে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত সাইদুলের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন এবং এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর একাধিক পুরোনো অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট, ক্যানিং ও ফলতার এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক ও ফলতার কর্মিসভার ঠিক আগেই পুলিশের এই জোড়া গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ যেমন মজবুত হবে, তেমনই আসন্ন পুনর্নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *