বিদায়বেলাতেও বিতর্কের কেন্দ্রে অনীক দত্ত, বিনোদন দুনিয়ার ‘মানসিক খুন’ নিয়ে বিস্ফোরক জীতু-রূপা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। তবে তাঁর শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নন্দনে তাঁর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’ প্রদর্শনে বাধা পাওয়ার সেই স্মৃতি ফিরে এল ২০২৬ সালের ২৯ মে, তাঁর শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দিনে। নন্দন চত্বর, এনটিওয়ান স্টুডিও হয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পরিচালকের নিথর দেহ পৌঁছানোর সমান্তরালে টলিউডের অন্দরের এক অন্ধকার দিক যেন আচমকাই সামনে চলে এল। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রয়াত পরিচালকের ‘অপরাজিত’ ছবির অভিনেতা জীতু কমল এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। দুজনেরই স্পষ্ট অভিযোগ, অনীক দত্ত স্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার নন, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মানসিক যন্ত্রণাই তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
টলিউডের অন্দরে অদৃশ্য বয়কট ও অবসাদের বীজ
পরিচালকের মৃত্যুর পর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অভিনেতা জীতু কমল। তাঁর দাবি, অনীক দত্তর এই পরিণতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত মানসিক নির্যাতন। ২০১৯ সালে সরকারি প্রেক্ষাগৃহে ছবি প্রদর্শনে বাধা পাওয়ার পর থেকেই এই অবসাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। জীতুর অভিযোগ, বহু প্রযোজক অনীকের সঙ্গে কাজ করতে ভয় পেতেন, কারণ ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত নিয়ম ছিল অনীকের ছবি করলে তা মুক্তির আলো দেখবে না। ২০২২-২৩ সালের দিকে ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবিটির কাজ করার সময় থেকেই শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিচালক। জীতুর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান মৃত্যুর পর যাঁকে ‘মানসিক রোগী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, সেই ঋজু ব্যক্তিত্বের মানুষকে আসলে সুকৌশলে মানসিকভাবে খুন করা হয়েছে।
শিল্পীমহলের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
এই বিতর্কে আরও জোরালো মাত্রা যোগ করেছে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কান্নাভেজা ক্ষোভ। এনটিওয়ান স্টুডিওর বাইরে দাঁড়িয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী-নেত্রী সরাসরি আঙুল তুলেছেন পূর্বতন সরকারের দিকে। তাঁর অভিযোগ, অনীককে বারবার অপমান করা এবং তাঁর সিনেমা বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। দল-মত নির্বিশেষে অনীকের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থাকলেও তৎকালীন শাসকদলের একাংশের দেওয়া মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়। রূপা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অপমানের শোধ নেওয়ার সুযোগও অনীক কাউকে দিলেন না। অন্যদিকে জীতু কমলও টলিউডের সিংহভাগ শিল্পীমহলের মেরুদণ্ডহীনতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অনীকের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই সময় টলিউডের নামী ব্যক্তিত্বরা প্রতিবাদ না করে বরং অত্যাচারীদেরই সমর্থন জুগিয়েছিলেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ইন্ডাস্ট্রির জটিল সমীকরণ
অনীক দত্তর এই অস্বাভাবিক বিদায় এবং তার প্রেক্ষিতে সহকর্মীদের এমন বিস্ফোরক বয়ান আগামী দিনে টলিউডের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুক্তমনা ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত একজন পরিচালকের এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার ঘটনা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এক বড়সড় ধাক্কা। এই ঘটনা বিনোদন জগতে বাক্স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতিকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সহকর্মীদের এই ক্ষোভ আগামী দিনে টলিউডের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো এবং শাসকদলের সঙ্গে শিল্পীমহলের সম্পর্কের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
