বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রুখতে নতুন নির্দেশিকা দিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ মোকাবিলায় নতুন কোনো আইনি নির্দেশিকা জারি করতে সাফ মানা করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ধরনের অপরাধ দমনের জন্য দেশে বর্তমানে যে আইনি কাঠামো রয়েছে, তা যথেষ্ট এবং নতুন করে আইন প্রণয়ন করা আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
আইন গড়া সংসদের কাজ
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, কোনো বিশেষ কাজকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা বা সেই সংক্রান্ত নতুন আইন তৈরি করার পূর্ণ ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথা সংসদ ও বিধানসভার হাতে ন্যস্ত। সংবিধানের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, আদালত আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারে, কিন্তু আইনসভাকে নতুন আইন প্রণয়নে বাধ্য করতে পারে না।
প্রয়োগের অভাবই আসল সমস্যা
আদালত মনে করে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে দেশে কোনো ‘আইনি শূন্যতা’ নেই। সমস্যাটি মূলত বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া নিয়ে। বিএনএসএস (BNSS) এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির অধীনে বর্তমানে যে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, তা এই অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশেষ করে ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানমূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রশাসন চাইলে এই ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আদালত স্পষ্ট করেছে, সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
সুদূরপ্রসারী প্রভাব
২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা এবং করোনা পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক বয়ান রুখতে এই জনস্বার্থ মামলাগুলো করা হয়েছিল। যদিও আদালত নতুন নির্দেশিকা দেয়নি, তবে এটি স্বীকার করেছে যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেশের ভ্রাতৃত্ব এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এই রায়ের ফলে এখন দায়ভার বর্তাল প্রশাসনের ওপর, কারণ বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই এখন এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এক ঝলকে
- বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রোধে নতুন কোনো নির্দেশিকা বা আইন জারি করতে অস্বীকৃতি জানালো সুপ্রিম কোর্ট।
- আদালতের মতে নতুন আইন প্রণয়ন করার দায়িত্ব কেবলমাত্র সংসদ ও বিধানসভার।
- বিদ্যমান ফৌজদারি আইন এবং বিএনএসএস-এর ধারাগুলো এই অপরাধ দমনে পর্যাপ্ত বলে মনে করে আদালত।
- সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
