বিভূতিভূষণের বাড়ি এবার পাবে নতুন রূপ: মিউজিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের!

বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত ঘরকে হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের, তুঙ্গে জল্পনা

বণগাঁ মহকুমার গোপালনগরের ব্যারাকপুরে অবস্থিত অমর কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসতবাড়িটি দীর্ঘ দিন ধরেই অনাদরে ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাড়িটিকে উদ্ধার করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস দলীয় ইস্তাহারে জানিয়েছেন, জয়ী হলে বিভূতিভূষণের এই ভিটেমাটিকে হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা তৈরি করা হবে।

কেন এই প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ?
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যারাকপুরে তাঁর জন্ম না হলেও, এখানেই তাঁর শৈশব, পড়াশোনা এবং কর্মজীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো অতিবাহিত হয়েছে। ইছামতী নদীর তীরে বসেই তিনি লিখেছিলেন তাঁর কালজয়ী সব সাহিত্যকর্ম। নদীটি ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু সাহিত্যপ্রেমী মানুষ এই বসতবাড়িটি দেখতে আসেন। অথচ, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে এমন কিছুই নেই যা থেকে পর্যটকরা এই মহান লেখকের ব্যক্তিগত জীবন বা পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে জানতে পারেন। স্থানীয় সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ দীর্ঘ দিন ধরেই বাড়িটিকে অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সাংস্কৃতিক ও নির্বাচনী প্রভাব
সাধারণত ভোটের ইস্তাহারে রাস্তাঘাট, পানীয় জল বা নিকাশি ব্যবস্থার মতো মৌলিক বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। সেখানে বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়িকে ইস্যু করা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, পরিবারের আপত্তির কারণে এতদিন এই কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার ক্ষমতায় এলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাড়িটিকে হেরিটেজের মান্যতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি, গোপালনগরকে পুরসভা গঠন, ইছামতী নদীর সংস্কার এবং বনগাঁ স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়েছে ইস্তাহারে।

সাংস্কৃতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিভূতিভূষণের বসতবাড়িটি মিউজিয়ামে রূপান্তরিত হলে বাংলার সাংস্কৃতিক পর্যটনের মানচিত্রে এটি এক অনন্য সংযোজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। বাড়িটিতে যথাযথ সংগ্রহশালা তৈরি হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সাহিত্যিকের জীবন ও কাজের ইতিহাস তুলে ধরার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এখন বনগাঁর মানুষ।

এক ঝলকে

  • মূল প্রতিশ্রুতি: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসতবাড়ি হেরিটেজের মর্যাদা ও মিউজিয়াম নির্মাণ।
  • অন্যান্য লক্ষ্য: গোপালনগরকে পুরসভা গঠন, ইছামতী নদী সংস্কার এবং বনগাঁ স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ।
  • প্রার্থী: বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস এই ইস্তাহার ঘোষণা করেছেন।
  • সমস্যা: দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িটি অনাদরে পড়ে আছে এবং এখানে লেখক সম্পর্কিত কোনো নিদর্শন বর্তমানে সংরক্ষিত নেই।
  • প্রত্যাশা: বাড়িটি মিউজিয়ামে পরিণত হলে পর্যটক বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন প্রজন্ম বিভূতিভূষণের সাহিত্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *