বিমানবন্দরের আলোতেও কাটেনি আঁধার, ৫০ বছর পর আলোর মুখ দেখল আরতি মণ্ডলের পরিবার – এবেলা

বিমানবন্দরের আলোতেও কাটেনি আঁধার, ৫০ বছর পর আলোর মুখ দেখল আরতি মণ্ডলের পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা লাগোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চোখধাঁধানো আলোর খুব কাছেই এতদিন অবস্থান করছিল এক আদিম অন্ধকার। উত্তর দমদমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটিয়েছে আরতি মণ্ডলের পরিবার। সন্ধ্যা নামলেই কেরোসিনের ল্যাম্প আর গরমে হাতপাখাই ছিল সত্তরোর্ধ্ব আরতি দেবীর নিত্যসঙ্গী। অবশেষে নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছায় মাত্র সাতদিনেই কাটল এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট।

পাঁচ দশকের বঞ্চনা ও অবসান

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত ৫০ বছরে বহুবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেও কোনো সুরাহা পায়নি এই পরিবারটি। এই দীর্ঘ অন্ধকারের মধ্যেই একে একে মারা গিয়েছেন আরতি মণ্ডলের শ্বশুর, শাশুড়ি এবং স্বামী। এমনকি তাঁর নাতনি বৃষ্টিকেও ল্যাম্পের আলোয় পড়াশোনা করে বড় হতে হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারের সময় উত্তর দমদমের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার এই চরম দুর্গতির কথা জানতে পারেন। এরপর নতুন সরকার গঠিত হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও আবেদন সম্পন্ন করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ওই পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের লাইন।

প্রশাসনিক উদাসীনতা ও ভবিষ্যতের প্রভাব

একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এত নিকটবর্তী এলাকায় কীভাবে একটি পরিবার ৫০ বছর ধরে মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রইল, তা পূর্ববর্তী শাসনকাল ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয় নয়, বরং তা নতুন সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক বার্তা।

তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি এই পিছিয়ে পড়া পরিবারটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা, উজ্জ্বলা গ্যাস এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন। এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে ওই অঞ্চলের অন্যান্য প্রান্তিক ও সুযোগ-বঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যেও নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আশা তৈরি হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *