বিয়ের আসরে ডিজে-র তালে নাচই কাল! স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের পর আত্মঘাতী স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের নান্দেদ জেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক কলহের জেরে প্রাণ হারালেন এক দম্পতি। স্বামীর আপত্তির তোয়াক্কা না করে বিয়ের অনুষ্ঠানে ডিজে গানের তালে নাচার অপরাধে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন স্বামী। এরপর অনুশোচনা বা গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। এই ভয়াবহ ঘটনায় বর্তমানে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিয়ের আনন্দ যখন বিষাদে পরিণত হলো
ঘটনার সূত্রপাত ১০ মে, নান্দেদ জেলার হিমায়েতনগর তালুকের বোরগাদি তান্ডা গ্রামে। অভিযুক্ত বিনোদ রাঠোর (৪০) তার স্ত্রী পায়েল রাঠোরকে (২৭) নিয়ে এক আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। বিয়ের উৎসবে ডিজে বাজানোর সময় পায়েল সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন এবং বেশ কিছুক্ষণ নাচ করেন। স্ত্রীর এভাবে জনসমক্ষে নাচ করা বিনোদ মেনে নিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে ওই রাতেই দম্পতির মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়। অভিমানে পায়েল ওই রাতেই সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে তার বাপের বাড়িতে চলে যান।
মধ্যরাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও আত্মঘাতী স্বামী
স্ত্রীর ওপর ক্ষোভ না কমে বরং আরও হিংস্র রূপ নেয় বিনোদের মধ্যে। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে বিনোদ তার শ্বশুরবাড়িতে অতর্কিতে প্রবেশ করেন। সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তিনি ঘুমন্ত পায়েলের গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে বিনোদ গ্রামের নির্জন এলাকায় চলে যান এবং সেখানে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরদিন সকালে পায়েলের নিথর দেহ এবং পরে বনের ভেতর থেকে বিনোদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অনাথ তিনটি শিশু এবং আইনি পদক্ষেপ
এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে দম্পতির তিনটি সন্তান এখন সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র আট মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং হিমায়েতনগর থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূলত স্বামীর চরম রক্ষণশীল মানসিকতা এবং ক্ষণস্থায়ী রাগের কারণেই একটি সাজানো গোছানো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
