বিয়ের মাত্র সাত মাসেই কনে নিরুদ্দেশ, যমজ সন্তানের জন্ম! চাঞ্চল্যকর প্রতারণার জালে যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজস্থানের সিকর জেলার দাতারামগড় এলাকায় এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পচার গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে গত বছরের মার্চ মাসে জয়পুরের একটি অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে হয় বিমলার (নাম পরিবর্তিত)। বিয়ের সময় কনেপক্ষ তাকে অবিবাহিত বলে দাবি করলেও বিয়ের মাত্র সাত মাস পরেই যমজ সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত ওই যুবক এবং তার পরিবার।
স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চম্পট
বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই ওই নারী বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। গত ২০ জুন একটি পারিবারিক বিয়ের অজুহাতে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার ও রুপার গয়না নিয়ে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। স্ত্রীর এই রহস্যজনক আচরণে যুবকের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে, যা পরবর্তীকালে বড় এক জালিয়াতি উন্মোচন করে।
পুরানো বিয়ের তথ্য গোপন
ভুক্তভোগী যুবক যখন নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজ নেওয়া শুরু করেন, তখন বেরিয়ে আসে আসল সত্য। জানা যায়, ২০১৬ সালেই রাজসমন্দ নিবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ের তথ্য গোপন করেই তাকে কুমারী সাজিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৬ অক্টোবর যমজ সন্তানের জন্ম হলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিয়ের আগেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব
এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়ে ওই যুবক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে দাতারামগড় থানা পুলিশ একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, যা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এক ঝলকে
- বিয়ের মাত্র ৭ মাস পরই যমজ সন্তানের জন্ম দিয়ে ধরা পড়লেন ‘লুটেরা’ কনে।
- ২০১৬ সালে হওয়া প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে পুনরায় বিয়ে ও জালিয়াতি।
- সুযোগ বুঝে শ্বশুরবাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকার গয়না নিয়ে বাপের বাড়িতে পলায়ন।
- ভুক্তভোগী স্বামীর মামলার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে রাজস্থান পুলিশ।
