বিশ্ববাজারের রক্তচক্ষু ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, সোমবার ধসের আশঙ্কায় ভারতীয় শেয়ার বাজার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং বিশ্ববাজারের দুর্বল সংকেতের জেরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড়সড় পতনের মুখে পড়তে চলেছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের দালাল স্ট্রিটে। সোমবার বাজার খোলার আগেই ‘গিফট নিফটি’ (Gift Nifty)-র নেতিবাচক অবস্থান সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
পতনের নেপথ্যে বিশ্ববাজার ও তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) মূল্যবৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য সবসময়ই উদ্বেগের কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে। এই বিশ্বজনীন অস্থিরতার কারণে সোমবার বাজার খোলার শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ সূচক বড় পতনের সম্মুখীন হতে পারে। এর আগে গত শুক্রবারও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার (Profit Booking) প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, যার ফলে নিফটি ৫০ সূচক ২৩,৬৫০-এর নিচে নেমে এবং সেনসেক্স ১৬০.৭৩ পয়েন্ট কমে ৭৫,২৩৭.৯৯-এ বন্ধ হয়। সোমবার সকালে গিফট নিফটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৫ পয়েন্ট নিচে ২৩,৫Setup-এর কাছাকাছি ঘোরাফেরা করায় বাজার আরও নিচে নামার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
ফলাফল ও খবরের জেরে নজরে থাকবে যে সব স্টক
বাজারের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও চতুর্থ প্রান্তিকের (Q4) আর্থিক ফলাফল এবং কর্পোরেট খবরের ওপর ভিত্তি করে বেশ কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের তীব্র নজর থাকবে।
- টাটা স্টিল ও হিন্দুস্তান কপার: ভালো ফলাফলের জেরে এই দুই ধাতু উৎপাদনকারী সংস্থার শেয়ারে গতি দেখা যেতে পারে। টাটা স্টিলের নিট মুনাফা ১৪৭% বেড়ে ২,৯৬৫ কোটি টাকা এবং হিন্দুস্তান কপারের মুনাফা ১৩৪% বেড়ে ৪৪৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
- প্রিমিয়ার এনার্জিস ও সেল (SAIL): প্রিমিয়ার এনার্জিসের নিট মুনাফা ৬৪.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৬.৮ কোটি টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সেলের (SAIL) মুনাফায় ৪৬.৭% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
- ভোডাফোন আইডিয়া: টেলিকম সংস্থাটি এক ‘অসাধারণ আয়’-এর ওপর ভর করে চতুর্থ প্রান্তিকে ৫১,৯৭০ কোটি টাকার বিশাল নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত প্রান্তিকের লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।
- বাজাজ ইলেকট্রিক্যালস ও এনসিসি: দুর্বল পরিচালনগত পারফরম্যান্সের কারণে বাজাজ ইলেকট্রিক্যালস ৬৭.৫ কোটি টাকার সমন্বিত নিট লোকসানের মুখ দেখেছে। পাশাপাশি অবকাঠামো খাতের এনসিসি (NCC)-র মুনাফাও ১৮.৮% হ্রাস পেয়েছে, যা আজ এই শেয়ার দুটির ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি করতে পারে।
- পাওয়ার ফাইন্যান্স ও পাওয়ার গ্রিড: আরইসি লিমিটেডের সাথে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মতি চাওয়ার অনুমোদন পাওয়ায় পাওয়ার ফাইন্যান্সের শেয়ারে আলোড়ন থাকতে পারে। পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিডের মুনাফা ৯.৭% বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
- এমকিউর ফার্মা: আহমেদাবাদের সানন্দ কারখানায় সম্প্রতি ইউএস এফডিএ (US FDA) পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ায় এই ফার্মা স্টকটির গতিবিধির দিকে নজর থাকবে বাজার বিশেষজ্ঞদের।
ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতীয় বাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) আরও বেশি মাত্রায় শেয়ার বিক্রি করতে পারেন, যা আগামী দিনে বাজারকে আরও কিছুটা সংশোধনের (Correction) দিকে ঠেলে দিতে পারে।
