বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বিশ্ব রাজনীতির তুলনায় কি ভারতের আমজনতার স্বস্তি বজায় থাকল পেট্রল ও ডিজেলের দামে – এবেলা

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বিশ্ব রাজনীতির তুলনায় কি ভারতের আমজনতার স্বস্তি বজায় থাকল পেট্রল ও ডিজেলের দামে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এই সংকটের সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। দীর্ঘ প্রায় এগারো সপ্তাহ স্থিতিশীল থাকার পর সম্প্রতি দেশজুড়ে জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতায় পেট্রলের দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম তিন টাকা বেড়ে ৯৫.১৩ টাকায় পৌঁছেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি আমজনতার দৈনন্দিন বাজেট ও হেঁসেলে বড়সড় টান তৈরি করেছে। নির্বাচনের পরেই এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও, শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও বৈশ্বিক সংকট

মূল্যবৃদ্ধির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে সরকারি ও শাসক দলের সূত্র থেকে জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার চরম সংকটের মুখে। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিশ্বের তাবড় অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোও এই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪১ ও ৪৮ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃদ্ধির হার ৪৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩১ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডে ৩৪ শতাংশ। এমনকি জার্মানির মতো উন্নত অর্থনীতিতেও জ্বালানির দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেশীদের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ৪১ শতাংশ, চিনে ২৪ শতাংশ এবং পাকিস্তানে এই বৃদ্ধি প্রায় ৫৫ শতাংশ ছুঁয়েছে। সেই তুলনায় ভারতের বাজারে দাম বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই নগণ্য বলে দাবি করা হচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ভারতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক সংকটকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত নিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই পথটি সংকটের মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে শুধু পেট্রল বা ডিজেল নয়, সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *