বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সফর! নেই কোনো সিট, নেই কোনো ছাদ, লোহার স্তূপের ওপর ১৮ ঘণ্টার এক মরণযাত্রা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বিপজ্জনক ট্রেন যাত্রার এক রোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। সাহারা মরুভূমির বুক চিরে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া এই ট্রেনটি মূলত লোহার আকরিক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশালকার ট্রেনে কোনো আসন, ছাদ বা টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে উড়ন্ত লৌহ আকরিকের স্তূপের ওপর বসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
মরুভূমির উত্তাপ ও জীবনঝুঁকি
জোয়ারাটের খনি থেকে শুরু হয়ে নওয়াধিবৌ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই যাত্রাপথে যাত্রীদের চরম প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়। দিনের বেলা মরুভূমির তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায়, আর রাতে নামে হাড়কাঁপানো শীত। এর সাথে যোগ হয় মরুঝড় ও ধুলিকণা। কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি বা আপদকালীন সহায়তার ব্যবস্থা না থাকায় ১৮ ঘণ্টার এই অবিরাম যাত্রা পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
বিপজ্জনক আকর্ষণের নেপথ্যে
পেশাদার মালবাহী ট্রেন হওয়া সত্ত্বেও কোনো টিকিটের প্রয়োজন না থাকায় স্থানীয়রা পণ্য পরিবহনের জন্য একে বেছে নেন। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে থাকা দুঃসাহসী পর্যটকদের কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং গন্তব্য হয়ে উঠেছে। তবে পর্যাপ্ত জল, খাবার ও সুরক্ষামূলক পোশাক ছাড়া এই যাত্রা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী হতে পারে। মূলত দারিদ্র্য এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে স্থানীয়রা এই মৃত্যুযাত্রায় শামিল হলেও, বিশ্বজুড়ে এটি এখন মৌরিতানিয়ার পর্যটনের এক অনন্য ও ভয়ংকর প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এক ঝলকে
- মৌরিতানিয়ার এই ‘লোহার ট্রেন’ প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কোনো ছাদ বা আসনবিহীন।
- ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে যাত্রীদের ৭০০ কিলোমিটার মরুভূমি পাড়ি দিতে হয়।
- চরম দাবদাহ, ধুলিকণা এবং কোনো বিরতি না থাকায় একে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক যাত্রা বলা হয়।
- খনি থেকে লোহা পরিবহনের এই ট্রেনটি কোনো টিকিট ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
