ভবানীপুরের পর এবার ফলতা! একের পর এক দুর্গ হারাচ্ছেন মমতা, ভোট দিতেই এলেন না ডায়মন্ড হারবারের ‘বাহুবলী’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তৃণমূলের বড় বিপর্যয়, ফলতায় আর দেখা যাচ্ছে না জোড়াফুলের পতাকা!
পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফলতায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে একসময় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তবে সম্প্রতি পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে এই অঞ্চলের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলটিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একসময়ের দলীয় দুর্গে এখন তৃণমূলের একটি পতাকারও দেখা মিলছে না।
পতনের নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক শূন্যতা
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের সময়ও ফলতা জুড়ে তৃণমূলের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। কিন্তু বেশ কিছু বুথে ইভিএমের ওপর আঠা ও সুগন্ধি জাতীয় পদার্থ লেপে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সেখানে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পুনর্নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খান আকস্মিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং এলাকা থেকে কার্যত নিখোঁজ হয়ে যান। দলগতভাবে একে জাহাঙ্গীর খানের ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হলেও, তাঁর এই প্রস্থান ফলতায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে ফলতায় শান্তিপূর্ণভাবে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তৃণমূলের কোনো সক্রিয় প্রার্থী বা সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় এই আসনে এখন মূল লড়াই হচ্ছে বিজেপির দেবাংশু পাণ্ডা এবং সিপিআইএমের শম্ভুনাথ কুর্মির মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর ফলতার মতো নিশ্চিত একটি আসন হাতছাড়া হওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের একাধিপত্যে বড় ধরনের ধাক্কা। এই ঘটনা অঞ্চলটিতে বিরোধী দলগুলোর আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াবে, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও প্রকাশ্যে এনে দেবে।
এক ঝলকে
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ফলতায় দলের সাংগঠনিক বিপর্যয় ঘটেছে।
- পুনর্নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোয় এই আসনে তৃণমূলের কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই।
- বুথ জ্যামিং ও ইভিএম বিকৃতির অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ফলতায় ৮৬ শতাংশেরও বেশি শান্তিপূর্ণ পুনর্মতদান সম্পন্ন হয়েছে।
- তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে এই আসনে এখন মূল লড়াই সীমাবদ্ধ রয়েছে বিজেপি এবং বামফ্রন্টের মধ্যে।
