ভয়টা কে পেয়েছে, আমি না অজয় পাল শর্মা? ফলতা ভোটের আগে প্রকাশ্যে এসেই চড়া সুরে বিঁধলেন জাহাঙ্গির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নতুন করে ভোটগ্রহণের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এই আবহেই দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রকাশ্যে এলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। গত ৪ মে-র পর থেকে এলাকায় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা যখন ‘আত্মগোপন’-এর তত্ত্ব খাড়া করছিল, তখন ময়দানে নেমেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিশানা করে জাহাঙ্গিরের প্রশ্ন, যদি সব ঠিকই ছিল, তবে গোটা কেন্দ্রে নতুন করে ভোট করতে হচ্ছে কেন? ভয়টা আসলে কে পেয়েছে, তিনি নাকি পুলিশ প্রশাসন?
নজিরবিহীন নির্বাচন ও দীর্ঘ নীরবতার কারণ
গত ২৯ এপ্রিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আগামী ২১ মে ‘ফ্রেশ পোল’ বা নতুন করে সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়। এই টানাপোড়েনের মাঝে এতদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তৃণমূল প্রার্থীকে। শুক্রবার ঘরে ফিরেই জাহাঙ্গির দাবি করেন, তিনি এলাকাতেই ছিলেন, তবে অশান্তি ও সংঘর্ষ এড়াতে এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নিজেকে কিছুটা আড়ালে রেখেছিলেন। নতুন করে প্রচারের কোনো প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগের।
শুভেন্দুর কর্মিসভা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
জাহাঙ্গির খানের এই প্রত্যাবর্তনের দিনেই ফলতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে চলেছে বিজেপি। শনিবার দলীয় প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার সমর্থনে ফলতায় হাইভোল্টেজ কর্মিসভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, প্রচারের শেষলগ্নে ১৯ মে ফলতা জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করারও পরিকল্পনা রয়েছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থীর আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট প্রচারের জেরে আগামী ২১ মে-র পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফলতা এখন কার্যত রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক চাপ ও রাজনৈতিক মেরুকরণের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ শেষ হাসি হাসে, এখন সেটাই দেখার।
