ভয়হীন ফলতা, বুথে শুধুই জওয়ানদের দাপাদাপি! ‘নির্বিষ’ পুনর্নির্বাচনে ভোট পড়ল প্রায় ৮৮% – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাহিনী ঘেরা ফলতায় ফিরল গণতান্ত্রিক উৎসব, উপচে পড়া ভোটে রেকর্ড ৮৭.৯৭ শতাংশ!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ছবি ধরা পড়ল। গত ২৯ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটে যে অশান্তি ও নিরাপত্তার খামতি দেখা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবারের পুনর্নির্বাচনে তা একপ্রকার উধাও। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা গোটা এলাকা জুড়ে দিনভর চলল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি ও বাইক টহল। বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট কিংবা ইভিএমে কারচুপির মতো চেনা অভিযোগ ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ পর্যন্ত ৮৭.৯৭ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
তৃণমূলের অনুপস্থিতি ও গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য
এই পুনর্নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের মাঠ ফাঁকা করে দেওয়া। শাসক দলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আগেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করায় এদিন বুথ স্তরে ঘাসফুল শিবিরের কোনো এজেন্ট বা নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। ফলে গোটা ফলতা জুড়ে একচেটিয়া প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের। গ্রামের রাস্তা থেকে রাজপথ—সবই ছিল পদ্ম পতাকায় মোড়া, যার মাঝে কেবল দু-এক জায়গায় বামপন্থীদের লাল ঝান্ডা চোখে পড়েছে। তবে এই একতরফা আবহের মধ্যেও সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি কয়েকটি নির্দিষ্ট বুথে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রিটার্নিং অফিসারের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ভীতিমুক্ত পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ
গত এক দশকের চেনা ছক ভেঙে ফলতার সাধারণ মানুষের মধ্যে এদিন ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অতীতের রাজনৈতিক হুমকি ও অত্যাচারের স্মৃতি ভুলে প্রবীণ থেকে নবীন—সবাই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথে আসেন। ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ততাকে স্বাগত জানাতে কোথাও কোথাও শরবত, লস্যি ও মিষ্টির আয়োজনও করা হয়েছিল। দুপুরের দিকে ভোটারদের লাইনের চেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যা বেশি থাকলেও, কড়া নজরদারির কারণে সাধারণ মানুষ কোনো রকম ভয়-ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
এক ঝলকে
- ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে কোনো বড় অশান্তি ছাড়াই রেকর্ড ৮৭.৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
- তৃণমূল প্রার্থী আগেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় বুথগুলোতে শাসক দলের কোনো এজেন্ট বা সক্রিয়তা ছিল না।
- ব্যাপক সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) কঠোর নজরদারিতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে মেটে।
- কয়েকটি বুথে ভোটারদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম।
