‘ভারতের ওপর যারা হামলা চালায়, ইউরোপ তো তাদেরই অস্ত্র বেচে!’ রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমাদের তুলোধনা জয়শঙ্করের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যারা বারবার নীতিশিক্ষা দিতে আসে, সেই পশ্চিমা দেশগুলোকে এবার তাদেরই ভাষায় কড়া জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ইউরোপের তোলা সমস্ত সমালোচনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের মুখোশ খুলে দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে ইউরোপ আজ ভারতকে জ্ঞান দিচ্ছে, তারাই আসলে ভারতের শত্রুদেশগুলোর হাতে দিনের পর দিন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।
ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্ত টকস’ (Kultaranta Talks)-এ ভূরাজনীতি সংক্রান্ত একটি আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কোর প্রতি ভারতের ‘সহানুভূতি’ এবং রুশ তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারান জয়শঙ্কর। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে পশ্চিমাদের একহাত নেন তিনি।
ইউরোপের অস্ত্রেই ভারতের ওপর হামলা!
ইউরোপীয় দেশগুলোকে কাঠগড়ায় তুলে জয়শঙ্কর চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “ভারতের তৈরি কোনও অস্ত্র দিয়ে আজ পর্যন্ত ইউরোপের কোনও দেশের ওপর হামলা চালানো হয়নি। কিন্তু ইউরোপের ক্ষেত্রে কি আমি একই কথা বলতে পারব?” ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলো যাদের কাছে দিনের পর দিন অস্ত্র বিক্রি করছে, সেই অস্ত্র কিন্তু ভারতের ওপর হামলা চালাতেই ব্যবহার করা হয়েছে। এটা আজকের ঘটনা নয়, বছরের পর বছর ধরে এটাই হয়ে আসছে। আমরা ভারতীয়রা কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলার মতো কিছু করিনি।”
রাশিয়া থেকে তেল কেনার আসল রহস্য ফাঁস:
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার পেছনে কোনও রাজনীতি নেই, বরং খাঁটি অর্থনৈতিক লাভ লুকিয়ে রয়েছে— তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তিনি এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে খোদ আমেরিকাই ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে অনুরোধ করেছিল!
জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় তেলের বিশ্ববাজার যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুরোধ করেছিল আমেরিকা। আমরা পুরোপুরি দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই তেল কিনি। তাছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো মিডল ইস্ট (মধ্যপ্রাচ্য) থেকে ব্যাপক হারে তেল কিনতে শুরু করে। মিডল ইস্ট ছিল আমাদের ঐতিহ্যগত তেল সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু ইউরোপের দরুন বাজার বদলে যাওয়ায় আমরা বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হই।” এর পেছনে কোনও ভূরাজনীতি (Geopolitics) নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
